×

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

হিন্দু ধর্মের উৎপত্তি কথা ও মা দুর্গা

Icon

বিদ্যুৎ কুমার দাশ

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 হিন্দু ধর্মের উৎপত্তি কথা ও মা দুর্গা

১৯০০-১৪০০ খ্রিস্টপূর্বের মধ্যে কোনো সময়ে ইন্দো-আর্য অভিবাসনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বৈদিক ধর্মের প্রবর্তন শুরু হয় এবং উত্তর ভারতে বৈদিক যুগের সূচনা হয়। খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীর পর ধীরে ধীরে ভারতে বৌদ্ধ ধর্মের পতন ঘটলে বৈদিক ধর্মের নবজাগরণের রূপে ধ্রæপদি হিন্দু ধর্মের উত্থান ঘটে। বর্তমানে হিন্দু ধর্মের চারটি বৃহত্তম স¤প্রদায় হলো বৈষ্ণবধর্ম, শৈবধর্ম, শাক্তধর্ম এবং স্মার্তবাদ। হিন্দু গ্রন্থগুলোতে কর্তৃত্ব এবং চিরন্তন সত্যের উৎসগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে এই সত্যগুলোর বোঝাপড়া আরো গভীর করতে এবং ঐতিহ্যকে আরো উন্নত করার জন্য কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার একটি শক্তিশালী হিন্দু ঐতিহ্যও রয়েছে। হিন্দু ধর্ম ভারত, নেপাল এবং মরিশাসের ওপর সর্বাধিক স্বীকৃতপ্রাপ্ত বিশ্বাস। বালি, ইন্দোনেশিয়া, ক্যারিবিয়ান, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, ওশেনিয়া, আফ্রিকা এবং অন্যান্য অঞ্চলসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হিন্দু স¤প্রদায় পাওয়া যায়।

সনাতন ধর্মে নারীর এক বড় সম্মান, সাহস শক্তি আছে। স্বয়ং মহাদেব মা কালীর পায়ের তলায়। আবার এই মা পুরুষকে কিংবা স্বামীকে সম্মান শ্রদ্ধা দিয়েছেন। যার কারণে মাকে তার জিহ্বায় কামড় দিতে হয়েছে। আবার মহাদেব মায়ের পায়ের তলায় পড়ে নারীকে বৃহৎ সম্মান এবং শক্তির রূপ প্রকাশের সাহায্য করেছেন। যদিও মা কালী রাক্ষস কেটে যাচ্ছিলেন। শিব কালীমাকে এই রণক্ষেত্র থেকে আটকাতেই এই কাজটি করে থামিয়েছিলেন। তেমনি শিব বা মহাদেব অসুরকে আমৃত্যু বদ দিলেও- অসুরের অত্যাচারে আর দুর্গার যুদ্ধে মহাদেব দুর্গার শক্তিকে সম্মান কিংবা আশীর্বাদ করেছিলেন। এরপরও অসুর দুর্গার কাছে পরাস্ত হতে বাধ্য ছিল। এখানেও নারীকে হিন্দু ধর্মে কিংবা সনাতন ধর্মে বৃহৎ শক্তি সম্মান দেখানো হয়।

প্রায় ৫ হাজার বছরের সনাতন ধর্ম। হাজার হাজার বছর যখন বিজ্ঞানের তেমন উন্নত প্রভাব ছিল না। কীভাবেই না কুসংস্কার জালে আক্রান্ত হয়েছিল- ভাবতেই গায়ের লোম উঁচু হবে।

অথচ এখনো সনাতনী ধর্মের বহু বই শিল্প, সাহিত্যে, ধ্যানে শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা যাবে। এর মধ্যে যখন ব্রিটিশরা সনাতন ধর্মকে হিন্দু ধর্ম নাম দিলেন। তা মাত্র ২৬০/২৭০ পূর্বে। বলা হয়, সিন্ধু নদ থেকে হিন্দু ধর্মের সৃষ্টি হয়। সিন্ধু নদের একপাশে আছে চীন অন্য পাশে আছে পাকিস্তান। এই ব্যাপক বিষয়টা আমি যদি না-ই আনি তবে আমি বলব, এই হিন্দু ধর্ম নামের সৃষ্টির পরও ভারতবর্ষে ভয়ংকর কুসংস্কার ছিল। ছিল বিধবা বিবাহ প্রথা, সতীদাহ প্রথার মতো মারাত্মক অপরাধ কিংবা অপসংস্কৃতি। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২১৫/২১৬ বছর আগেও ভারতের রাজ্যের রাজা ত্রিভাঙ্কুর যখন ছিলেন তখন পুরুষরা গোঁফ রাখলে কর দিতে হতো। এ বিষয়টা না হয় কিছু যায়-আসে না- গোঁফ রাখলেও কি না রাখলেও কি? তবে মেয়েদের জন্য ছিল মারাত্মক আত্মঘাতী! নারীকে তার স্তনের জন্য কর দিতে হতো। স্থানীয় ভাষায় বলা হতো বিষয়টাকে ‘মুলাক্করম’। এই হিংস্রতার মধ্যেও বর্ণবৈষম্য হিন্দুর মেয়েরা শিকার হয়। অসভ্য বৈষম্য হিংস্র আইনটা ছিল- ব্রাহ্মণ ছাড়া হিন্দু ধর্মের অন্য কোনো গোত্রের নারীর স্তন দেখা যেতে পারবে না। ঢেকে না রেখে থাকবে- নারীদের স্তন। স্তন বড় হলে শুল্ক হবে বেশি। এই শুল্কের বেশির ভাগ টাকা ‘পদ্মনাভ মন্দির’-এ যেত। গ্রিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস বলে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ছিল এই মন্দির। সে দিনের কৃষ্ণ বর্ণের অপূর্ব এক পঁয়ত্রিশ বছরের সুন্দরী নারীর ভেতর বিপ্লব জাগ্রত হলো। শুল্ক সংগ্রাহকদের অতিরিক্ত যন্ত্রণায় বাইরে বসতে বললেন। তারপর দরজা বন্ধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুটি স্তন তিনি কেটে ফেললেন। তারপর কলাপাতায় মুড়িয়ে দুটি স্তন শুল্ক সংগ্রাহকদের হাতে তুলে দিলেন। তারপর মেয়েটি অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান। নারীর এই অধিকার প্রতিষ্ঠা করা বীরাঙ্গনা নাম নাঙেলি। মেয়েটির স্বামীও তার দাউ দাউ শ্মশানে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। স্বামীর এভাবে মরাও ভারতবর্ষের মধ্যে এই প্রথম। এই নারী ১৮৫৬ সালে ভারতে নিজের অজান্তেই কাপড় দাঙ্গার বীজও বপন করেছিলেন। মেয়েটির আত্মত্যাগ ভারত কেঁদে ওঠে। ওইসব ভয়ংকর কুসংস্কার থেকে সরে আসে।

আদি সনাতন ধর্ম থেকে নাম পরিবর্তনে হিন্দু ধর্ম হলেও আমাদের এই আদি ধর্মটার মানুষ বর্ণবৈষম্য, শ্রেণিবৈষম্য, কুসংস্কার থেকে এখনো মুক্তি পায়নি। কুসংস্কার দিনে দিনে ঝেঁকে বসেছে প্রতিটা ধাপে ধাপে, স্তরে স্তরে। অশিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত কিছু ব্রাহ্মণ সমাজের বেশির ভাগ লোকও এটার জন্য দায়ী বলা যায়। এরা অনেকে এই কুসংস্কারের চিন্তা-চেতনায় ধর্মটাকে যুগে যুগে হাজার হাজার বছর ধরে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টায় লিপ্ত আছেন। ঢাক, ঢোল, বাঁশি, গান, বাজনার সংস্কৃতির আভিজাত্যের চির আধুনিক ধর্মটা কুসংস্কারমুক্ত মডার্ন ধর্মে নিজেদের স্বার্থে হলেও উঠে আসতেই পারেনি। এসব প্রতিহত করতে হলে দুর্গার দশ হাতের শক্তি সনাতন সন্তানদের মধ্যে ধারণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে অসুরের শক্তি দুর্গার ত্রিশূল পর্যন্ত। তারপর দুর্গার পায়ে অসুরের শক্তি সমাপ্ত হয়। মা দুর্গার শক্তি নিয়ে নারী শক্তি পারে সমাজ বদলে নতুন আলোকিত সমাজ আনতে। সর্বস্তরের মা দুর্গার জয় হোক, প্রতিহত করুক অন্যায়-অবিচার।

বিদ্যুৎ কুমার দাশ : কবি ও লেখক, চট্টগ্রাম।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

জ্বালানি সাশ্রয়ে মালয়েশিয়ায় ঘরে বসে কাজের ঘোষণা

জ্বালানি সাশ্রয়ে মালয়েশিয়ায় ঘরে বসে কাজের ঘোষণা

দুই বিচারক কর্মকর্তার বদলি

দুই বিচারক কর্মকর্তার বদলি

ইরানের সঙ্গে ফিলিপাইনের নিরাপত্তা সমঝোতা

ইরানের সঙ্গে ফিলিপাইনের নিরাপত্তা সমঝোতা

৬ কোটি টাকার ডায়মন্ডসহ ভারতীয় নাগরিক আটক

৬ কোটি টাকার ডায়মন্ডসহ ভারতীয় নাগরিক আটক

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App