বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আরেকজনের মৃত্যু, আটক ১২
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পাবনার সুজানগর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় আহত মুনছুর খাঁ (৬০) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকাল ৩টার দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খঈম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত মুনছুর খাঁ উপজেলার ভিটবিলা গ্রামের মৃত জয়নাল শেখের ছেলে।
এ নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো দুজনে। এর আগে সোমবার সকালে সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান চায়না খাতুন (৪০) নামের এক গৃহবধূ। তিনি একই গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী। নিহত দুজনই বিএনপির কর্মী ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের সমর্থক বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আহত হন ১০ জন।
ওসি খঈম উদ্দিন বলেন, ‘গতকাল নিহত গৃহবধূর মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আর হাসপাতালে মারা যাওয়া মুনছুর খাঁর মরদেহের ময়নাতদন্ত রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সম্পন্ন হবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। মঙ্গলবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে।’
সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে সুজানগর উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উপজেলার হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলামের পক্ষের সঙ্গে মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামের বিএনপি সমর্থক ইসলাম প্রামাণিকের পক্ষের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত রোববার দিবাগত রাতে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। সোমবার সকালে ইসলাম প্রামাণিকপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকায় জড়ো হচ্ছিলেন। এ সময় রাফিউলের লোকজন লাঠিসোঁটা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে গুলিবর্ষণ ও বাড়ি ভাঙচুর করেন। গুলিতে উপজেলার ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী চায়না ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ছাড়া গুরুতর আহত ১০ জনকে উদ্ধার করে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
