সংসদে ফজলুর রহমানের বক্তব্যের নিন্দা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ করে অপ্রীতিকর ও অসংসদীয় ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সংগঠনটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন ও সেক্রেটারি জেনারেল বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তাজিরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। বিবৃতিতে সংগঠনের আরও ৭০ জন সদস্য স্বাক্ষর করেন।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ ও জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং সংসদেও আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে, যা তাদের নজরে এসেছে। তারা উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে জেনারেল জিয়াউর রহমানের আহ্বানে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ সরকারের অধীনেই রয়েছেন এবং সরকারি ভাতা পেয়ে আসছেন।
তারা বলেন, স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক মুক্তিযোদ্ধা বিভিন্ন দলে যুক্ত হয়েছেন -কেউ আওয়ামী লীগ, কেউ জাসদ, কেউ জাতীয় পার্টি, আবার বিএনপি গঠনের পর অনেকেই ওই দলে যোগ দেন। এমনকি ১৯৭৯ সালের পর রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু হলে কিছু মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতেও যুক্ত হন।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, ফজলুর রহমান নিজেও অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যুক্ত থাকার পর বিএনপিতে যোগ দেন। কিশোরগঞ্জের কোম্পানি কমান্ডার আইয়ুব বিন হায়দারের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরও তিনি সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নেননি এবং কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন না।
মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ মনে করে, ‘মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না’ -ফজলুর রহমানের এমন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। তারা বলেন, স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে যে কেউ রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের পক্ষে থাকা যেকোনো রাজনৈতিক মতাদর্শে যুক্ত হওয়ার অধিকার রাখেন।
সংগঠনটির নেতারা আরও বলেন, জাতীয় সংসদ আইন প্রণয়ন ও উন্নয়নমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গা; এখানে ব্যক্তিগত বা দলীয় আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার অনুচিত। বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ করে ফজলুর রহমানের বক্তব্যকে তারা নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে দেশের রাজনৈতিক বিভাজন কমিয়ে ঐক্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে গণভোটের রায়ের প্রতিফলন ঘটিয়ে সংবিধান সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অন্যথায় দেশ পুনরায় স্বৈরাচারী শাসনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
