এক বছরে সমুদ্রে নিখোঁজ ৯০০ রোহিঙ্গা : জাতিসংঘ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
২০২৫ সালকে সমুদ্রপথে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের যাত্রার ক্ষেত্রে ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ওই বছরে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এ তথ্য জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রপথে চলাচলের ক্ষেত্রে ২০২৫ সাল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হিসেবে দেখা দিয়েছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, গত এক বছরে ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি রোহিঙ্গা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে সমুদ্রপথে যাত্রার চেষ্টা করেছেন। এর মধ্যে প্রতি সাতজনের একজন নিখোঁজ হয়েছেন বা প্রাণ হারিয়েছেন, যা বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত অভিবাসন রুটগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুহার।
ইউএনএইচসিআর আরও জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সমুদ্রপথে যাত্রা করা রোহিঙ্গাদের অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু। মৃত্যুর এই প্রবণতা ২০২৬ সালেও অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন মাসে ২ হাজার ৮০০-এর বেশি রোহিঙ্গা একই ধরনের বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা করেছেন।
বিবৃতিতে সাম্প্রতিক এক দুর্ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়। গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশ থেকে যাত্রা করা অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি নৌকা আন্দামান সাগরে ডুবে যায়। এতে প্রায় ২৫০ জন রোহিঙ্গা নিখোঁজ হন। পরে ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে মাত্র ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তাদের বর্তমানে চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও মনোসামাজিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
ইউএনএইচসিআরের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মানব পাচার, শোষণ এবং মৃত্যুঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বহু রোহিঙ্গা বাধ্য হয়ে এই সমুদ্রপথ বেছে নিচ্ছেন। মূলত বাংলাদেশের কক্সবাজার ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকায় ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার উদ্দেশে তারা যাত্রা করেন।
অধিকাংশ রোহিঙ্গা নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে ফিরতে চাইলেও চলমান সংঘাত, নিপীড়ন এবং নাগরিকত্ব সংকটের কারণে সেই সম্ভাবনা সীমিত। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতি, ক্যাম্পের অস্থিরতা এবং শিক্ষা ও জীবিকার সীমিত সুযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বর্তমানে বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশে। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনার মাত্র ৫৩ শতাংশ অর্থায়ন পাওয়া গেছে, যা মানবিক সহায়তায় বড় ঘাটতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এ অবস্থায় বাস্তুচ্যুতির মূল কারণ মোকাবিলা, নিরাপদ অভিবাসন পথ সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার এবং মানব পাচার রোধে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।
