সিকেডি হাসপাতালে চাঁদা দাবি, রিমান্ড শেষে কারাগারে ৭ আসামি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকার শ্যামলীতে সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চাঁদা দাবির মামলায় রিমান্ড শেষে প্রধান আসামি মঈন উদ্দিনসহ সাত জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো অন্য আসামিরা হলেন, ফারুক হোসেন সুমন, লিটন মিয়া, ফালান মিয়া, মো. রুবেল, স্বপন কাজী ও শাওন হোসেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১১ এপ্রিল সিকেডি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ মো. আবু হানিফ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা করেন। এতে মঈন উদ্দিনকে প্রধান আসামি এবং আরও সাত-আট জন অজ্ঞাতকে আসামি করা হয়। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
চার দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ছাব্বির আহমেদ। প্রসিকিউশন বিভাগের পক্ষ থেকেও রিমান্ডের পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়। অন্যদিকে আসামিপক্ষ জামিনের আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে ১৪ এপ্রিল মঈন উদ্দিনসহ তিন আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
এজাহারে বলা হয়, সিকেডি হাসপাতালের কাছে মঈন উদ্দিন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ হানিফকে হুমকি দেন এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
এর ধারাবাহিকতায় ১০ এপ্রিল সকালে তারা শেরেবাংলা নগরের শ্যামলী ৩ নম্বর রোডে হানিফের বাসার সামনে গিয়ে দরজা খুলতে বলেন। পরে দরজা খোলা হলে তার স্ত্রীকে লক্ষ্য করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়। হানিফের স্ত্রী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা সেখানে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করেন।
পরবর্তীতে হানিফ তার ভাই মো. মনির তালুকদারকে ফোন করলে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। এরপর মঈনসহ অন্যরা ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আরও লোক জড়ো করেন। পরে প্রায় ৫০–৬০ জনকে একত্র করে সিকেডি হাসপাতালের সামনে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় তারা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেয়, গালাগালি করে এবং পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। হাসপাতালের মালিক মো. কামরুল ইসলামকে লক্ষ্য করেও হুমকিসূচক স্লোগান দেওয়া হয় বলে এজাহারে বলা হয়েছে।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
