×

জাতীয়

ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে প্রতিদিন ২০ জন নিহত

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২২ পিএম

ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে প্রতিদিন ২০ জন নিহত

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ছবি : সংগৃহীত

সদ্য বিদায়ী ঈদুল ফিতরকে ঘিরে ১৫ দিনে (১৪–২৮ মার্চ) দেশে ৩৭৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯৮ জন নিহত হয়েছেন। অর্থাৎ ঈদযাত্রা সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। নিহতদের মধ্যে ৪৬ জন নারী ও ৬৭ জন শিশু রয়েছে।

এ ছাড়া জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (পঙ্গু হাসপাতাল), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী আহত হয়েছেন দুই হাজারেরও বেশি মানুষ।

একই সময়ে ১১টি নৌপথ দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত, ২৩ জন আহত এবং ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে ২৯টি রেল দুর্ঘটনায় ৪১ জন নিহত এবং ২০৯ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন সংবাদমাধ্যম, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১১৬ জন, বাসযাত্রী ৪১ জন, ট্রাক-পিকআপে ১৩ জন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে ২০ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী ৫০ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ৯ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী ২ জন নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১১৫টি জাতীয় মহাসড়কে, ১৬১টি আঞ্চলিক সড়কে, ৪৮টি গ্রামীণ সড়কে, ৪২টি শহরের সড়কে এবং ৭টি অন্যান্য স্থানে (ফেরিঘাটসহ) দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী ৯৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৫২টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৪৯টি পথচারীকে চাপা দিয়ে, ৬৮টি পেছন থেকে ধাক্কা এবং ৮টি অন্যান্য কারণে সংঘটিত হয়েছে।

এই দুর্ঘটনাগুলোতে মোট ৬১৮টি যানবাহন জড়িত ছিল। এর মধ্যে বাস ৯১টি, ট্রাক ৬৪টি, কাভার্ডভ্যান ২১টি, পিকআপ ২৪টি, ট্রাক্টর ৪টি, ড্রাম ট্রাক ৭টি, মাইক্রোবাস ১১টি, প্রাইভেটকার ৩২টি, মোটরসাইকেল ১৫৩টি, থ্রি-হুইলার ১৩৮টি এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি বিভিন্ন যানবাহন ৪২টি রয়েছে।

বিভাগভিত্তিক হিসেবে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি হয়েছে, ৯৩টি দুর্ঘটনায় ৭৪ জন নিহত। অন্যদিকে বরিশালে সবচেয়ে কম ১২ জন নিহত হয়েছেন। জেলা হিসেবে চট্টগ্রামে ৪৩টি দুর্ঘটনায় ৩২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

আরো পড়ুন : হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের তদন্ত প্রতিবেদন জমা

ঈদযাত্রা পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, এবারের ঈদে রাজধানী ঢাকা থেকে এক কোটির বেশি মানুষ গ্রামে গেছেন এবং সারা দেশে প্রায় চার কোটি মানুষ যাতায়াত করেছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগে ছুটি হওয়া এবং দীর্ঘ ছুটির কারণে সড়ক ও নৌপথে ভিড় তুলনামূলক কম ছিল, তবে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে।

এবারের ঈদে কয়েকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা দেশবাসীকে শোকাহত করেছে। সদরঘাটে দুই লঞ্চের মাঝে চাপা পড়ে ২ জন নিহত, জামালপুরে সেতু দুর্ঘটনায় ৪ শিশু নিহত, কুমিল্লায় রেলক্রসিং দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত এবং দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস নদীতে পড়ে ২৬ জন নিহত হন। এসব ঘটনাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার ফল বলে উল্লেখ করে এগুলোকে “কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ফাউন্ডেশনটি।

তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরে ১১ দিনে ২৫৭টি দুর্ঘটনায় ২৪৯ জন নিহত হয়েছিলেন। সে সময় প্রতিদিন গড়ে ২২.৬৩ জন নিহত হন। আর এ বছর ১৫ দিনে প্রতিদিন গড়ে ১৯.৮৬ জন নিহত হয়েছেন। ফলে দুর্ঘটনা বেড়েছে ৬.৪২ শতাংশ, তবে প্রাণহানি কমেছে ১২.২৪ শতাংশ।

তবে এই কমার প্রবণতাকে ইতিবাচক উন্নয়ন হিসেবে দেখছে না সংস্থাটি। তাদের মতে, পরিবহন খাতে কোনো কার্যকর ব্যবস্থাপনার উন্নতি হয়নি, বরং জ্বালানি সংকটের কারণে মোটরসাইকেলের ব্যবহার কমায় প্রাণহানি কিছুটা কমেছে। তবুও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কিশোর-যুবকদের উচ্চ ঝুঁকি দেখা গেছে, যেখানে ৫৩ শতাংশ ভুক্তভোগীর বয়স ১৪ থেকে ২০ বছর।

সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে একাধিক সুপারিশ দিয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, বিআরটিএ, বিআরটিসি ও ডিটিসিএকে এর অধীনে আনা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করা, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশন করে আধুনিক বাসসেবা চালু, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি এবং মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সব রেলক্রসিংয়ে গেটকিপার নিয়োগ, সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বাড়াতে বাজেট বরাদ্দ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের কথাও বলা হয়েছে।

সবশেষে টেকসই পরিবহন কৌশলের আওতায় সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন সমন্বিত করে একটি অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। কার্যকর নীতিমালা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে এর জন্য সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা অপরিহার্য।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বাঞ্ছারামপুরে তেলের তীব্র সংকট

বাঞ্ছারামপুরে তেলের তীব্র সংকট

শনিবার বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভের ডাক ১১ দলীয় জোটের

শনিবার বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভের ডাক ১১ দলীয় জোটের

ইরানের ছাড়পত্র পাওয়া বাংলাদেশি ৫ জাহাজের চালান বাতিল

ইরানের ছাড়পত্র পাওয়া বাংলাদেশি ৫ জাহাজের চালান বাতিল

বোরকা পরে তেল নিতে গিয়ে ধরা খেলেন যুবক

বোরকা পরে তেল নিতে গিয়ে ধরা খেলেন যুবক

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App