×

জাতীয়

অর্থমন্ত্রী

‘জ্বালানির ধাক্কা সামলাতে আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণের আলোচনা’

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম

‘জ্বালানির ধাক্কা সামলাতে আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণের আলোচনা’

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকটের যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে, তা মোকাবিলায় 'অতিরিক্ত অর্থের যোগান' পেতে আইএমফের সঙ্গে আলোচনা করার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, কোন শর্তে কত টাকা পাওয়া যাবে, তার বিস্তারিত আলোচনা হবে আগামী এপ্রিলে আইএমফের বসন্তকালীন বৈঠকে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন। 

তার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন।

আইএমএফের লোন কর্মসূচি আদায় নেয়ার ব্যাপারে এক সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, ওটা আলাপ-আলোচনা চলছে এবং আইএমএফের যে রিকয়ারমেন্ট, এগুলো আমরা আলোচনা করেছি কতটুকু সম্ভব। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেগুলো সম্ভব নয়, সেগুলো ক্রমান্বয়ে করতে হবে। একসঙ্গে সব করা যাবে না, কারণ অর্থনীতি যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে সেখান থেকে উত্তরণ করতে হলে আমাদেরকে আমাদের মতো করেই কিছু চিন্তা করতে হবে।’

এ বিষয়ে কোনো ছাড় চাচ্ছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘ওটা তো জুলাইয়ে পরবর্তী রিভিউয়ে আলাপ হবে। এর মধ্যে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার দেয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে আমরা বাজেটের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

লোন প্রোগ্রামের অতিরিক্ত কোনো সাহায্যের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত আলোচনা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এগুলো আগামী এপ্রিলে ওয়াশিংটনের স্প্রিং মিটিংয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।’

এই পর্যন্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, আমাদের সরকারের মাত্র এক মাস হয়েছে। এ এক মাসের মধ্যে রমজান মাস ছিল, এর মধ্যে যুদ্ধও শুরু হয়েছে। আপনারা দেখেছেন, তেলের জ্বালানি সংকট সত্ত্বেও পরিবহনে কোনো সমস্যা হয়নি। পরিবহনগুলো ঈদের সময় সবাই বাড়িতে যেতে পেরেছে, ভাড়া বাড়েনি, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ছিল। এর মধ্যে গার্মেন্টসে প্রত্যেক বছর যে সমস্যাগুলো ঈদের আগে হয়, এবার দেখছেন গার্মেন্টসে কোনো অস্থিরতা ছিল না। এগুলো আমাদের অর্থনৈতিক ম্যানেজমেন্টের কারণে সম্ভব হয়েছে।’

এগুলো ব্যবস্থাপনা সরকার আগে থেকে নিয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সঠিক সময়ে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছি বলে পুরো রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ছিল, পরিবহনে কোনো সমস্যা হয় নাই। তেলের এত বড় সংকট থাকা সত্ত্বেও তেলের অভাবে কোনো পরিবহন বন্ধ ছিল না এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন সঠিক সময়ে দেয়া হয়েছে, কোনো অস্থিরতা ছিল না। এ পর্যন্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

দেশবাসীর কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে, সহানুভূতিশীল হতে হবেম, সংযম আমাদের মধ্যে আসতে হবে। যেহেতু যুদ্ধ কোনো সরকারের হাতে নাই, যুদ্ধ হচ্ছে অন্য জায়গায়। এটার হচ্ছি আমরা ভুক্তভোগী। এজন্য আমাদের একটু সংযমের দিকেও যেতে হবে, সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। সবাই মিলে আমরা সংকট থেকে উত্তরণ করতে পারবো, অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো।’

যুদ্ধ প্রেক্ষাপটে আইএমএফের দেয়া পরামর্শের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধের প্রেক্ষাপট আছে, তারপর ব্যাংকিং সেক্টরে চ্যালেঞ্জ আছে, ক্যাপিটাল মার্কেটে চ্যালেঞ্জ আছে। জিডিপি—ট্যাক্স জিডিপিটা আমরা সবচেয়ে একেবারে নিম্ন পর্যায়ে। এটাতে ইমপ্রুভমেন্টের ব্যাপারে আমরা কী করতে পারি সেগুলো আলোচনা চলছে।’

সংস্কার নিয়ে তারা সন্তুষ্ট কি না বা নতুন করে কোনো প্রস্তাবনা দিয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিগত সরকারগুলোর বিষয়ে তো আলোচনা হয় না। আমরা তো মাত্র শুরু করলাম। আমাদের কাজগুলো নিয়েই আলোচনা হয়েছে।’

জ্বালানি আমদানিতে যে অতিরিক্ত অর্থ জোগান দেয়ার ব্যাপারে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘সেগুলো আমাদের আলোচনার মধ্যে আছে। আমরা স্প্রিং মিটিংয়ে ওয়াশিংটনে যাচ্ছি, সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হবে।’

এসময় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব নেয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত যেটা আমরা পেয়েছি, অর্থনৈতিকভাবে একটা খুবই খারাপ অবস্থায়। অর্থনীতির যে অবস্থায় বাংলাদেশ, সেখান থেকে উত্তরণের জন্য যে প্রোগ্রামগুলো আছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মেনিফেস্টোতে যে কথাগুলো বলা আছে, এ সংকট থেকে উত্তরণের ব্যাপারে—সেগুলো আমরা আলাপ করেছি। বিশেষ করে এরকম একটা অবস্থা থেকে উত্তরণ করতে গেলে আমাদের যে অনেকগুলো রিফর্ম দরকার, অনেক ডিরেগুলেশন দরকার, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ইকোনমি—বিশেষ করে ব্যাংকিং সেক্টর অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় আছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শেয়ারবাজার খুবই খারাপ অবস্থায় আছে। তারপরে ট্যাক্স-জিডিপি অবস্থা খুবই কঠিন। তো এগুলো থেকে উত্তরণ করতে হলে আমাদের ইলেকশন মেনিফেস্টোতে আমরা যে কথাগুলো বলেছি, সেগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এটা সম্ভব। এবং এগুলো বাস্তবায়নের যে পদক্ষেপগুলো আমরা একটার পর একটা নিয়ে যাচ্ছি। এরই মধ্যে আপনারা দেখেছেন অনেকগুলো সোশ্যাল সেক্টরে আমরা অলরেডি কাজ শুরু করে দিয়েছি। ফ্যামিলি কার্ড থেকে শুরু করে, কৃষক কার্ড, কৃষকের ঋণ মওকুফের ব্যাপারেও কাজ শুরু হয়েছে।’

ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টগুলোর মধ্যে অনেকগুলো ফিন্যান্সিয়াল সমস্যার কারণে থমকে গেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও অনেক কিছু থমকে গেছে, এগুলোকে আবার রিভাইভ করতে হবে। এগুলো রিভাইভ করতে হলে সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে একটা জায়গায় নিয়ে যেতে হবে এবং অর্থনীতিকে সেই জায়গায় নিয়ে যেতে এরই মধ্যে আমরা কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি, বাকিগুলো খুব সহসায় নিতে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেটা আমরা বহুদিন যাবৎ বলে আসছি যে, “ডিরেগুলেশন, রিফর্মস, ইজ অব ডুইং বিজনেস”—ব্যবসাকে সহজতর করে দেয়া, কস্ট অব ডুইং বিজনেস কমিয়ে আনা। এই মেজারগুলো বিএনপি সরকার থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে বলেছেন যে, আমাদের মেনিফেস্টো বাস্তবায়নের জন্য যে পরিবর্তন দরকার, সেই পরিবর্তনগুলো ইনশাআল্লাহ আমরা এরই মধ্যে কিছু করেছি, বাকিগুলো খুব সহসায় আপনারা দেখতে পাবেন।’ এছাড়া বাজেটের মধ্যে এর প্রতিফলন দেখা যাবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে ট্রাম্পকে সৌদি যুবরাজের চাপ

ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে ট্রাম্পকে সৌদি যুবরাজের চাপ

২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল সুপরিকল্পিত

প্রধানমন্ত্রীর বাণী ২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল সুপরিকল্পিত

জ্বালানি সংকটে ফিলিপাইনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

জ্বালানি সংকটে ফিলিপাইনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

ডিএমপির ৪ থানার ওসি বদলি

ডিএমপির ৪ থানার ওসি বদলি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App