×

জাতীয়

২০২৪: ইতিহাস সাক্ষী বাংলাদেশের এক অগ্নিঝরা বছর

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৯:৩৮ এএম

২০২৪: ইতিহাস সাক্ষী  বাংলাদেশের এক অগ্নিঝরা বছর

ছবি : সংগৃহীত

আর মাত্র পাঁচ দিন পর বিদায় নেবে নানা ঘটনা ও সংকটময় অধ্যায়ে ভরা ২০২৪ সাল। নতুন প্রত্যাশা আর স্বপ্ন নিয়ে আসবে ২০২৫। এ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বিশ্বব্যাপী পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করার প্রস্তুতি চলছে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে বিদায়ী বছরের ঘটনাগুলো স্মৃতিতে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।

নতুন বছরের শুরু, সরকারের নতুন অধ্যায়

২০২৪ সালের শুরু হয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারের নতুন অধ্যায় দিয়ে। তবে বছরের মাঝামাঝি এসে, বিশেষত জুলাই-আগস্ট মাসে, দেশজুড়ে ঘটে ইতিহাসের অন্যতম ন্যক্কারজনক ঘটনা। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন পরিণত হয় সরকার পতনের আন্দোলনে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে দমন-পীড়নের পথে হাঁটতে হয়। ফলে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী তকমা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং বিদায় ঘণ্টা বেজে যায়।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরু

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই থেকে শুরু হয় ছাত্রদের আন্দোলন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবেশ ও বিক্ষোভ হয়। প্রথম দিকে শান্তিপূর্ণ থাকলেও আন্দোলন দমনে সরকার কঠোর বলপ্রয়োগ করে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তাল হয়ে ওঠে।

এই গণআন্দোলন দমনে শেখ হাসিনা সরকার নির্মম পথে এগোয়। নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় শিক্ষার্থী আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ আরও অনেককে। এমনকি ঘরের জানালায় থাকা শিশুরাও গুলির শিকার হয়। আহত হয় হাজার হাজার মানুষ। কিন্তু জনগণের চেতনা স্তব্ধ করা যায়নি। সরকারি নিপীড়ন এবং গণহত্যার প্রতিবাদে পুরো দেশ একত্রিত হয়।

জুলাইয়ের আন্দোলন চূড়ান্ত পরিণতিতে পৌঁছায় ৫ আগস্ট, যা "৩৬ জুলাই" নামে ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। এই দিন শেখ হাসিনার পতন ঘটে এবং তিনি পালিয়ে যান। অন্তহীন লড়াই আর আত্মত্যাগের জন্য ২০২৪ সালের জুলাই মাস দেশের ইতিহাসে একটি অতুলনীয় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

জুলাই মাস: অন্তহীন অগ্নিমুখ

১ জুলাই, সোমবার

কোটা বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে ছাত্র সমাবেশ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে দাবির বিষয়ে চূড়ান্ত সুরাহার আহ্বান জানানো হয়। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে তিন দিনের কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়।

২ জুলাই, মঙ্গলবার

আন্দোলনকারীরা এদিন বেলা পৌনে তিনটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে মিছিল করে নীলক্ষেত, সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও বাটা সিগন্যাল মোড় ঘুরে শাহবাগে গিয়ে থামে। সেখানে তারা এক ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।

৩ জুলাই, বুধবার

এদিন আন্দোলনকারীরা ঢাকার শাহবাগ মোড় দেড় ঘণ্টার মতো অবরোধ করে রাখেন। একই দাবিতে আরও ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও অবরোধ করেন।

৪ জুলাই, বৃহস্পতিবার

সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণার বিষয়ে হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগে স্থগিত হয়নি। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ ‘নট টুডে’ বলে আদেশ দেন। শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক অবরোধ করে। আর ঢাকায় শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখে পাঁচ ঘণ্টা।

৫ জুলাই, শুক্রবার

ছুটির দিন শুক্রবারও বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা। চট্টগ্রাম, খুলনা ও গোপালগঞ্জে সড়ক অবরোধ।

৬ জুলাই, শনিবার

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আগের দিনের মতোই বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ছাত্রধর্মঘট এবং সারা দেশে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধের ডাক দেন। এর নাম দেওয়া হয় ‘বাংলা ব্লকেড’। মূলত এদিন থেকেই সরকারের বিদায় ঘণ্টা বাজতে শুরু করে।

৭ জুলাই, রোববার

বাংলা ব্লকেডে স্থবির রাজধানী। অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা।

৮ জুলাই, সোমবার

ঢাকার ১১ স্থানে অবরোধ, ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ, তিনটি স্থানে রেলপথ অবরোধ এবং ৬টি মহাসড়ক অবরোধ। সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে শুধু সংবিধান অনুযায়ী অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যূনতম কোটা রেখে সংসদে আইন পাসের দাবি।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার

হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে দুই শিক্ষার্থীর আবেদন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা চার ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে পরদিন সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা ‘বাংলা ব্লকেড’ নামে অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

১০ জুলাই, বুধবার

সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগে (৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড) কোটার বিষয়ে পক্ষগুলোকে চার সপ্তাহের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ আপিল বিভাগের। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, ‘আমি প্রথম দিনই বলেছিলাম, রাস্তায় স্লোগান দিয়ে রায় পরিবর্তন হয় না। এটা আজকে না, আমি যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ছিলাম, তখন একটি মামলায় বলেছিলাম, রাস্তায় স্লোগান দিয়ে রায় পরিবর্তন করা যায় না। এটি সঠিক পদক্ষেপ না। ’

১১ জুলাই, বৃহস্পতিবার

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা সর্বোচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শন করছেন। এটি অনভিপ্রেত ও সম্পূর্ণ বেআইনি। সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, শিক্ষার্থীরা ‘লিমিট ক্রস’ করে যাচ্ছেন।

১২ জুলাই, শুক্রবার

কোটা সংস্কারের দাবিতে শুক্রবার ছুটির দিনেও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন।

১৩ জুলাই, শনিবার

সব গ্রেডে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা হয় এদিন। পরের দিন রোববার গণপদযাত্রা করে রাষ্ট্রপতি বরাবর এ স্মারকলিপি দেবেন আন্দোলনকারীরা। কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা পরিস্থিতিকে সহিংস করে তোলে।

১৪ জুলাই, রোববার

গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন, ‘কোটা বিষয়ে আমার কিছু করার নেই। ’ শেখ হাসিনা আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের নাতিপুতিরা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতিপুতিরা চাকরি পাবে?’ একই দিনে পদযাত্রা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দিয়ে আন্দোলনকারীরা জাতীয় সংসদে জরুরি অধিবেশন ডেকে সরকারি চাকরির সব গ্রেডের কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন।

১৫ জুলাই, সোমবার

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ স্লোগানের জবাব ছাত্রলীগই দেবে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনে যারা ‘আমি রাজাকার’ স্লোগান দিচ্ছেন, তাদের শেষ দেখিয়ে ছাড়বেন বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন।

১৬ জুলাই, মঙ্গলবার

রংপুরে আন্দোলনকারী বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের বুলেটে নিহত হওয়ার সচিত্র ছবি প্রকাশিত হয়। সারা দেশে দিনভর ব্যাপক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ। বিকেলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আন্দোলন যাবে, আন্দোলন আসবে। কিন্তু ছাত্রলীগ থাকবে। সবকিছুই মনে রাখা হবে এবং জবাব দেওয়া হবে। একটি ঘটনাও জবাব ছাড়া যাবে না। ’

১৭ জুলাই, বুধবার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিতাড়ন করে ‘রাজনীতিমুক্ত’ ঘোষণা হয়। ছুটির দিনেও ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রবিক্ষোভ, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ। রাত সাড়ে সাতটায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন শেখ হাসিনা।

১৮ জুলাই, বৃহস্পতিবার

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ সারা দেশ ছিল প্রায় অচল। সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন।

১৯ জুলাই, শুক্রবার

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ বা সর্বাত্মক অবরোধের কর্মসূচি ঘিরে রাজধানী ঢাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর, গুলি, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। রাজধানী ঢাকা ছিল কার্যত অচল, পরিস্থিতি ছিল থমথমে। আন্দোলনকারীরা জানান, ৯ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত চলবে। রাতে সারা দেশে কারফিউ জারি, সেনাবাহিনী মোতায়েন। ইন্টারনেট–সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে সরকার।

২০ জুলাই, শনিবার

দেশজুড়ে কারফিউ, সেনা মোতায়েন। সাধারণ ছুটি ঘোষণা। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, ধাওয়া ও গুলি। এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কারফিউ চলবে। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামকে তুলে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে এদিন। আন্দোলনের তিন সমন্বয়ক তিন মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আট দফা দাবি পেশ করেন। একইদিন কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা পরিস্থিতিকে সহিংস করে তোলে।

২১ জুলাই, রোববার

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের রায়—কোটাপ্রথা হিসেবে মেধাভিত্তিক ৯৩ শতাংশ; মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ; ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ১ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।

২২ জুলাই, সোমবার

কোটাপ্রথা সংস্কার করে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তৈরি করা প্রজ্ঞাপন অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী পদে থাকা শেখ হাসিনা।

২৩ জুলাই, মঙ্গলবার

কোটাপ্রথা সংস্কার করে প্রজ্ঞাপন জারি। রাতে সীমিত আকারে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট–সেবা চালু হয়।

২৪ জুলাই, বুধবার

কোটা আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের মজুমদার ও রিফাত রশীদের খোঁজ পাওয়া যায় এদিন।

২৫ জুলাই, বৃহস্পতিবার

প্রধানমন্ত্রীর মেট্রোস্টেশন পরিদর্শন। সেদিন ঢাকা শহরে ঘটে যাওয়ার নানা ঘটনায় দেশবাসীর কাছে কেঁদে কেঁদে বিচার চান তিনি।

২৬ জুলাই, শুক্রবার

এলাকা ভাগ করে চলে ‘ব্লক রেইড’। সারা দেশে অভিযান। সারা দেশে অন্তত ৫৫৫টি মামলা। নাহিদ ইসলামসহ কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন সমন্বয়ককে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল থেকে নিজেদের হেফাজতে নেয় ডিবি। অপর দুই সমন্বয়ক হলেন আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের মজুমদার। সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ বা সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি দেওয়ার পর ১৯ জুলাই মধ্যরাতে খিলগাঁওয়ের নন্দীপাড়া থেকে নাহিদকে তুলে নেওয়া হয়।

২৭ জুলাই, শনিবার

কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই সমন্বয়ককে সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহকে হেফাজতে নেয় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

২৮ জুলাই, রোববার

কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুমকে হেফাজতে নেয় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ডিবির হেফাজতে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয়জন সমন্বয়ক এক ভিডিও বার্তায় সব কর্মসূচি প্রত্যাহারের কথা বলেন। মোবাইল ইন্টারনেট ১০ দিন পর সচল হয়।

২৯ জুলাই, সোমবার

জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত হয় ১৪ দলের বৈঠকে। ৬ সমন্বয়ক থাকে ডিবি হেফাজতে। ‘জাতিকে নিয়ে মশকরা কইরেন না’—এক শুনানিতে এ মন্তব্য করেন হাইকোর্ট।

৩০ জুলাই, মঙ্গলবার

হত্যার বিচার চেয়ে মুখে লাল কাপড় বেঁধে মিছিল। জাতিসংঘ মহাসচিবের বিবৃতি, স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের প্রোফাইল লাল রঙের ফ্রেমে রাঙান অনেকে। ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

৩১ জুলাই, বুধবার

‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। কর্মসূচির নাম দেওয়া হয় ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’।

১ আগস্ট, বৃহস্পতিবার

ডিবি হেফাজতে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৬ সমন্বয়ককে ছেড়ে দেওয়া হয়। বেলা দেড়টার একটু পরেই তারা ডিবি কার্যালয় থেকে কালো রঙের একটি গাড়িতে বেরিয়ে আসেন। জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।

২ আগস্ট, শুক্রবার

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে জুমার নামাজের পর দোয়া ও ছাত্র-জনতার গণমিছিল’ কর্মসূচি পালিত হয়। ২৮ জেলায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের ‘দ্রোহযাত্রা’ কর্মসূচি পালন। শিল্পীসমাজের ব্যতিক্রমী প্রতিবাদে শামিল হন সর্বস্তরের মানুষ।

৩ আগস্ট, শনিবার

সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে উত্তাল হয় বাংলাদেশ। ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জমায়েত হন শিক্ষার্থীসহ হাজারো জনতা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে রাজধানীসহ দেশের ৩৩টি জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ হয়।

৪ আগস্ট, রোববার

সরকার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির প্রথম দিনে সারা দেশে ১৮ জেলায় ব্যাপক সংঘাত ঘটে।

৫ আগস্ট, সোমবার

‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয় ৬ আগস্টের জন্য। সেটি এগিয়ে নিয়ে আসা হয় এদিন। সর্বস্তরের মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। পরিস্থিতি বেগতিক হয়ে পড়ে সরকারের জন্য। সেনাপ্রধান শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগের পরামর্শ দেন। কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ার দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। গণভবন, সংসদ ভবনে ঢুকে পড়ে অসংখ্য মানুষ। আর এভাবেই শেষ হয় ছাত্র-জনতার বিপ্লব।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

রাশিয়া থেকে জ্বালানি কিনতে অনুমতি চেয়ে চিঠির জবাব দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়া থেকে জ্বালানি কিনতে অনুমতি চেয়ে চিঠির জবাব দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র

সিলেটে পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি স্টেশনের ধর্মঘট প্রত্যাহার

সিলেটে পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি স্টেশনের ধর্মঘট প্রত্যাহার

শোবিজে গুঞ্জন, প্রেমে পড়েছেন মিষ্টি জান্নাত

শোবিজে গুঞ্জন, প্রেমে পড়েছেন মিষ্টি জান্নাত

অসুস্থ মাকে নিয়ে চরম বিপাকে মেয়ে আজমিনা

অসুস্থ মাকে নিয়ে চরম বিপাকে মেয়ে আজমিনা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App