ঈদে নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডদের বিশেষ নজরদারির আহ্বান নৌপ্রতিমন্ত্রীর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ঈদকে সামনে রেখে ছোট ছোট নৌপথে ঝুঁকিপূর্ণ ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যদের এ বিষয়ে বিশেষ নজরদারির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সামান্য সময় বাঁচাতে গিয়ে অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে যাত্রা করেন। দুর্ঘটনা ঘটলে একদিকে যেমন মানুষের প্রাণহানি ঘটে, অন্যদিকে সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরও বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর ইস্কাটনে লেডিস ক্লাবে নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে নৌপথ মানুষ ও পণ্য পরিবহনের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ, কম খরচের ও আরামদায়ক পথ হিসেবে বিবেচিত। দেশের নৌপথে দুর্ঘটনার হারও অন্যান্য পরিবহনের তুলনায় কম। তবে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর, জাহাজ মালিক ও শ্রমিকদের আরো সচেতনতা প্রয়োজন। সবাই দায়িত্বশীল হলে নৌ দুর্ঘটনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন।
নৌপ্রতিমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, ঈদুল আজহা ও বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে যাত্রী, কোরবানির পশু ও কার্গো পরিবহনে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। কোথাও যেন মনিটরিংয়ে গাফিলতি না থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সবকিছু পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
তিনি বলেন, 'দিবসভিত্তিক অনুষ্ঠানগুলো প্রায়ই আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। আলোচনা হয়, সুন্দর সুন্দর কথা বলা হয়, কিন্তু বাস্তবে পরিবর্তন আসে না। এ অবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন। অনেক কাজ একসঙ্গে করার চেয়ে একটি কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।'
তিনি আরো বলেন, 'বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে নৌপথ মানুষ ও পণ্য পরিবহনের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ, কম খরচের ও আরামদায়ক পথ হিসেবে বিবেচিত। দেশের নৌপথে দুর্ঘটনার হারও অন্যান্য পরিবহনের তুলনায় কম। তবে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর, জাহাজ মালিক ও শ্রমিকদের আরো সচেতনতা প্রয়োজন। সবাই দায়িত্বশীল হলে নৌ দুর্ঘটনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা সম্ভব।'
দেশের নদীগুলো নানা কারণে সংকুচিত হয়ে আসছে, কোথাও চর জেগে উঠছে। এ অবস্থায় নৌপথকে টিকিয়ে রাখতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আধুনিক ও সময়োপযোগী নৌযান চালুর দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বলেন, 'একসময় প্রায় প্রতি বছর বড় ধরনের জাহাজডুবির ঘটনা ঘটত। কিন্তু মন্ত্রণালয়, মালিক ও শ্রমিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এখন সেই সংখ্যা অনেক কমে এসেছে। এই অগ্রগতি ধরে রাখতে নিয়মিত তদারকি বাড়াতে হবে।'
নৌযানের রুট পারমিট ও সার্ভে প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও পরবর্তীতে অনেক ক্ষেত্রে আর তদারকি করা হয় না।' এমন অভিযোগও রয়েছে যে পরিদর্শনের সময় সাময়িকভাবে জাহাজ সাজিয়ে উপস্থাপন করা হয়। তাই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরিদর্শনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, 'সামনে বর্ষা মৌসুম হওয়ায় নদী উত্তাল থাকবে। তাই যাত্রীবাহী জাহাজগুলোকে কাগজপত্র ঠিক রেখে চলাচল করতে হবে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত জাহাজ পরিদর্শনে যাবেন এবং কোথাও অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, মালিক, নাবিক ও শ্রমিক সবাই মিলে কাজ করলে দেশের নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের যে ঐতিহ্য ছিল, তা আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সড়ক, রেল ও নৌ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া, বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারী, চীফ ইঞ্জিনিয়ার এণ্ড শিপ সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান।
