আইআরজিসি
তেল ট্যাংকারে হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজে আক্রমণ চালানো হবে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০২:১০ পিএম
হরমুজ প্রণালিতে আইআরজিসির স্পিডবোট। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালানো হবে।
ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে গতকাল শনিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর এক দিন আগে ওমান উপসাগরে দুটি ইরানি ট্যাংকারে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইরানের ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজে যেকোনো হামলার জবাবে এ অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং শত্রুপক্ষের জাহাজে জোরালো হামলা চালানো হবে।’
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। এতে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে শত শত জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে। আটকা পড়া এই জাহাজগুলোকে হরমুজের সংকীর্ণ জলপথ পার করার লক্ষ্য নিয়ে নিয়ে ৪ মে ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ নামের একটি অভিযানের উদ্যোগ নিয়েছিল মার্কিন নৌবাহিনী। কিন্তু এই অভিযান শুরুর চেষ্টা করতেই পারস্য উপসাগরে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান।
পরিস্থিতির চাপে ৫ মে ১ ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে চলা মার্কিন অবরোধ বজায় থাকবে বলে জানান তিনি।
৭ মে ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করার সময় দুটি ইরানি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, পাশাপাশি প্রণালিটির কেশম দ্বীপে বেসামরিক এলাকায় এবং নিকটবর্তী ইরানের মূল ভূখণ্ডের বন্দর খামির ও সিরিকের উপকূলীয় এলাকায় হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে তারা হরমুজ প্রণালির পূর্বে ও ইরানের চাবাহার বন্দরের দক্ষিণে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোতে হামলা চালিয়েছে বলে জানায়।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে তিনটি ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এর জবাবে তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা আর অন্য অবস্থানগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
৮ মে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, তাদের অবরোধ উপেক্ষা করে ইরানের বন্দরগুলোর দিকে এগোতে থাকা ইরানের পতাকাবাহী দুটি খালি তেলবাহী ট্যাংকারে আঘাত হেনেছে তারা।
ইরানি গণমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলায় একটি ট্যাংকারে আগুন ধরে যায় আর এর এক নাবিক নিহত ও আরও ১০ জন আহত হয়। ইরানি বাহিনী হরমুজ প্রণালির পূর্বে ওমান উপসাগর থেকে একটি তেল ট্যাংকার জব্দ করে। এই ট্যাংকারটি তাদের তেল রপ্তানিতে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ ইরানি বাহিনীর।
একই দিন সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও তিনটি ড্রোন প্রতিহত করেছে। এ ঘটনায় তিনজন সামান্য আহত হয়েছে।
এদিন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, “প্রত্যেকবার একটি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা সামনে আসে আর যুক্তরাষ্ট্র একটি বেপরোয়া সামরিক অভিযানের পথ বেছে নেয়।”
এসব সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতি বজায় আছে বলে দাবি করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
