পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হত্যার অভিযোগ
মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ পুলিশ কনস্টেবল স্বামী নূর উদ্দিন স্ত্রী মনি আক্তারকে (২৫) হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করেছেন। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) রাতে উপজেলার বাঘড়ি বাজারের ওয়ালটন প্লাজা সংলগ্ন মসজিদ গলি এলাকার একটি বাসা থেকে মনি আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি উপজেলার বামনকাঠি এলাকার খলিলুর রহমানের মেয়ে। তার স্বামী নূর উদ্দিন ঝালকাঠি জেলা পুলিশের একজন কনস্টেবল।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস জানান, নূর উদ্দিন গত ৫-৬ মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে আত্মহত্যার খবর পেয়ে রাজাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর মেঝেতে মনি আক্তারকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। নূর উদ্দিন পুলিশ লাইন্স থেকে রাজাপুর সার্কেল অফিসে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারের গানম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন বলে জানা গেছে।
নিহতের পরিবার জানায়, দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত। বিভিন্ন সময়ে টাকার জন্য মনি আক্তারকে মারধর করতেন নূর উদ্দিন। তাদের সংসারে পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এছাড়া মনি আক্তার তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
নিহতের পিতা খলিলুর রহমান জানান, রাতে নূর উদ্দিন ফোন করে তাকে বলেন, “আপনার মেয়ে আর নেই, দ্রুত বাসায় আসেন।” পরে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেয়ের বাসায় গিয়ে দেখেন, দরজায় হ্যাজবল লাগানো থাকলেও তালা খোলা। ঘরে ঢুকে মেয়ের মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ৯৯৯-এ খবর দেয়।
নিহতের ভাই ওমর ফারুক দাবি করেন, মনি আক্তারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তাকে হত্যা করে স্বামী পালিয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নির্যাতন ও টাকার জন্য চাপ দেওয়ার কারণে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত নূর উদ্দিন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার। তাদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে মনি আক্তারকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হচ্ছে।
তবে নূর উদ্দিনের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে তার স্ত্রী ঘরের দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যা করেন। পরে ভয়ে তিনি সন্তানকে নিয়ে বাসা থেকে চলে যান।
রাজাপুর থানার ওসি সুজন বিশ্বাস জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তে নিহতের শরীরের দুই পাশের বগল থেকে কোমর পর্যন্ত আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
