শিশুর হঠাৎ জ্বর হলে কী করবেন?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
ছবি : সংগৃহীত
শিশুর শরীরের তাপমাত্রা বাড়লে বাবা-মায়েরা সাধারণত চিন্তিত হয়ে পড়েন। তবে জ্বর নিজে থেকে কোনো ক্ষতি করে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি শরীরের সংক্রমণ প্রতিরোধের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তাই শিশুকে শারীরিক কষ্ট থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি মা-বাবাকে থাকতে হবে সচেতন ও যত্নশীল। শিশুর জ্বর হলে আতঙ্কিত না হয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিলে সে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।
জ্বরের লক্ষণ ও উপসর্গগুলো কী?
- খিটখিটে ভাব
- অস্বস্তি বোধ করা
- শরীর গরম লাগা
- মুখ লাল হয়ে যাওয়া
- ঘাম হওয়া
শিশুর জ্বর হলে কী করবেন?
শিশুর বয়স ৩ মাসের কম হলে এবং তাপমাত্রা ১০০.৪° বা তার বেশি হলে দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করুন। যোগাযোগ সম্ভব না হলে শিশুকে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। জ্বর হলে শিশুকে স্কুল বা চাইল্ডকেয়ারে না রেখে বাড়িতে রাখুন, যতক্ষণ না তার তাপমাত্রা অন্তত ২৪ ঘণ্টা স্বাভাবিক থাকে।
জ্বর কমানোর কিছু উপায়
- পানিশূন্যতা এড়াতে শিশুকে প্রচুর তরল পান করান।
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যাসিটামিনোফেন বা আইবুপ্রোফেন দিন। শিশু বা কিশোরকে কখনোই অ্যাসপিরিন দেবেন না, কারণ এটি রেই সিনড্রোম নামক বিরল কিন্তু গুরুতর রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- জ্বর কমাতে রাবিং অ্যালকোহল বা ঠান্ডা পানিতে গোসল করানো থেকে বিরত থাকুন।
- শিশুকে হালকা পোশাক পরান এবং হালকা চাদর ব্যবহার করুন।
- শিশু যা খেতে চায় তা খেতে দিন, জোর করবেন না।
- বমি বা ডায়রিয়া থাকলে ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন দেওয়া প্রয়োজন কি না তা ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
- শিশুর পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করুন।
আরো পড়ুন : চার সিটিতে হামের টিকাদান শুরু আজ
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
শিশুর বয়স ৩ মাসের কম হলে এবং জ্বর ১০০.৪° বা তার বেশি হলে অবশ্যই ডাক্তার দেখাতে হবে। বড় শিশুদের ক্ষেত্রে যদি শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেয়, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া বা বারবার বমি হয়, পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা যায়, প্রস্রাব কমে যায়, কান্নার সময় চোখে পানি না আসে, স্বাভাবিকের চেয়ে কম সক্রিয় থাকে, টানা ৫ দিন জ্বর থাকে অথবা দীর্ঘমেয়াদি রোগ (যেমন সিকেল সেল ডিজিজ বা ক্যান্সার) থাকে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
জ্বর কি প্রতিরোধ করা যায়?
সব শিশুরই মাঝে মাঝে জ্বর হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কয়েক দিনের মধ্যে তারা স্বাভাবিক হয়ে যায়। মূল বিষয় হলো, জ্বর থাকা অবস্থায় শিশুকে আরামদায়ক রাখা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
