বাংলাদেশ থামল ৪১৩ রানে
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
প্রথম দিনে শান্ত-মুমিনুল বাংলাদেশকে যে ভিত গড়ে দিয়েছিলেন, দ্বিতীয় দিনে সেটিকে চারশর ওপরে নিয়ে গেলেন মুশফিকুর রহিম ও শেষ দিকের ব্যাটসম্যানরা। মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেমেছে ৪১৩ রানে।
লাঞ্চে বাংলাদেশের রান ছিল ৭ উইকেটে ৩৮০। তখনও এক প্রান্তে ছিলেন মুশফিক। কিন্তু বিরতির পর খুব বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। শাহিন শাহ আফ্রিদির ভেতরে ঢোকা বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। ১৭৯ বলে ৮ চারে ৭১ রান করেন মুশফিক। তার বিদায়ের পর বাংলাদেশের ৪০০ পেরোনো নিয়ে কিছুটা সংশয় তৈরি হলেও শেষ দিকে তাসকিন আহমেদের ঝোড়ো ক্যামিও সেই কাজটা সহজ করে দেয়।
তাসকিন ১৯ বলে ২৮ রানের ইনিংসে ৩টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন। মোহাম্মদ আব্বাসকে সাইটস্ক্রিনের ওপর দিয়ে ছক্কা, শাহিনকে কভার দিয়ে চার, শেষ দিকের ব্যাটিংয়ে তার এই আক্রমণাত্মক মানসিকতাই বাংলাদেশকে ৪১৩ পর্যন্ত নিয়ে যায়। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে শাহিনের বলে দ্বিতীয় স্লিপে সৌদ শাকিলের দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরেন তাসকিন।
এর আগে সকালে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল মিশ্র। ৩০১/৪ নিয়ে দিন শুরু করা স্বাগতিকরা প্রথম ঘণ্টায় লিটন দাস ও মুশফিকের ব্যাটে এগোচ্ছিল ভালোভাবেই। লিটন দিনের শুরুতে শাহিন শাহ আফ্রিদির এক ওভারে টানা তিন চার মেরে চাপ ফিরিয়ে দেন পাকিস্তানের ওপর। কিন্তু ৬৭ বলে ৩৩ রান করে মোহাম্মদ আব্বাসের শর্ট বলে মিড অনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
লিটনের পর মেহেদী হাসান মিরাজ দ্রুত রান তুলতে চেয়েছিলেন। আব্বাসকে চার ও ছক্কা মারলেও বেশিক্ষণ টেকেননি। ১২ বলে ১০ রান করে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ইমাম-উল-হকের হাতে ধরা পড়েন তিনি। তাইজুল ইসলামও ২৩ বলে ১৭ রানের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস খেলেন। তবে তাকেও ফেরান আব্বাস। লাঞ্চের আগেই বাংলাদেশের তিন উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ এনে দেন এই অভিজ্ঞ পেসার।
আব্বাসই শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের সেরা বোলার। ৩৪ ওভারে ৮ মেইডেনে ৯২ রান দিয়ে নিয়েছেন ৫ উইকেট। লিটন, মিরাজ, তাইজুলের পর লাঞ্চের পর ইবাদত হোসেনকেও ফিরিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। গতি খুব বেশি নয়, কিন্তু লাইন, লেংথ, বাউন্সার ব্যবহার আর ব্যাটসম্যানকে ভুল করানোর ক্ষমতায় পুরো ইনিংসজুড়ে কার্যকর ছিলেন আব্বাস।
শাহিন শাহ আফ্রিদি শেষদিকে মুশফিক ও তাসকিনকে ফিরিয়ে ৩ উইকেট নেন। তবে ৩১ ওভারে ১১৩ রান খরচ করেছেন তিনি। হাসান আলী নিয়েছেন ১ উইকেট। পাকিস্তানের বোলিংয়ে আব্বাস ছাড়া ধারাবাহিক চাপ খুব বেশি দেখা যায়নি।
বাংলাদেশের ইনিংসের মূল গল্প অবশ্য প্রথম দিনের। ৩১ রানে ২ উইকেট হারানোর পর নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের ১৭০ রানের জুটি ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। শান্ত ১০১ রান করেন, মুমিনুল ফিরেছিলেন ৯১ রানে। তাদের গড়া মঞ্চেই দ্বিতীয় দিনে মুশফিকের ৭১, লিটনের ৩৩, তাইজুলের ১৭ ও তাসকিনের ২৮ যোগ হয়ে বাংলাদেশকে চারশ পেরোনো সংগ্রহ দেয়।
