চালকের গাফিলতিতে লাইনচ্যুত ট্রেন, বরখাস্ত সহকারী স্টেশন মাস্টার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বগুড়ার আদমদীঘিতে লাইনচ্যুত নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন 'নীলসাগর এক্সপ্রেস' ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুতের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে সান্তাহারের সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর ২টায় সান্তাহার থেকে দু’কিলোমিটার উত্তরে বাগবাড়ী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনার কারণে উত্তরাঞ্চলের একাংশে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জানা যায়, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে 'নীলসাগর এক্সপ্রেস' যোগে কয়েকশ যাত্রী সান্তাহার হয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। প্রতিদিনের মতো বুধবারও সান্তাহার স্টেশন সংলগ্ন বাগবাড়ী এলাকায় রেললাইনের সংস্কার কাজ চলছিল। তবে সংস্কারাধীন ওই অংশে পৌঁছানোর পর কিছু বুঝে ওঠার আগেই ট্রেনটির ৯টি বগি আকস্মিক লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বগিগুলোর মধ্যে রয়েছে— এসি চেয়ার (৭২৩৫), পাওয়ার কার (৭৫১৩) এবং বেশ কয়েকটি শোভন চেয়ার বগি (৭২৫০, ৭২২৭, ৭৯০৫, ৭৯২৭ ও ৭৯২৮)।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তারা শতাধিক আহত যাত্রীকে উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই অনেক যাত্রী নিজ উদ্যোগে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে গন্তব্যে রওনা হওয়ায় আহতের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
সান্তাহার জংশন স্টেশনের অধীনে দায়িত্বে থাকা ওয়েম্যান সোহেল বলেন, ‘রেললাইন ভেঙে যাওয়ার কারণে এখানে কাজ হচ্ছিল। কন্ট্রোল রুমে সিগন্যাল দেওয়া আছে। তারপরও লাল ব্যানার দেওয়া থাকে। সিগন্যাল ও লাল ব্যানার উপেক্ষা করে ট্রেনটি এসে দুর্ঘটনায় পড়ে। এমনকি হাতের সিগন্যালও মানেননি চালক। আমি মনে করি এটা ট্রেনচালকের অবহেলার কারণে এতো বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে।’
জানতে চাইলে সান্তাহারের স্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন বলেন, ‘কীভাবে এটা হলো এখন বলা যাবে না। পরবর্তীতে বলা যাবে। কারণ এখন এখানে ট্রেনের ড্রাইভার নেই। এ ঘটনায় সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’
