ঈশ্বরদী থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে, পথে আরেকটি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বগুড়ার আদমদীঘিতে লাইনচ্যুত নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন উদ্ধারে ঈশ্বরদী থেকে ছেড়ে আসা উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এ সময় সৈয়দপুর থেকে আরেকটি উদ্ধারকারী ট্রেন আসছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৬ টা ৫০ মিনিটে ট্রেনটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ হোসেন মাসুম।
এর আগে, দুপুর ২টায় সান্তাহার থেকে দু’কিলোমিটার উত্তরে বাগবাড়ী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনার কারণে উত্তরাঞ্চলের একাংশে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, বাগবাড়ী এলাকায় গত ১৫-২০ দিন ধরে রেললাইন সংস্কারের কাজ চলায় ট্রেনগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করছিরো। বুধবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী 'নীলসাগর এক্সপ্রেস' দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ট্রেনের ইঞ্জিনটি সংস্কারাধীন অংশ পার হতে পারলেও হঠাৎ করেই ১৪টি বগির মধ্যে ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে যায়। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে ট্রেনের ছাদে থাকা যাত্রীরা নিচে লাফিয়ে পড়লে বেশ কয়েকজন আহত হন।
এ সময় খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। এলাকাবাসীও তাদের সহযোগিতা করে। নওগাঁ ২৫০শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয় অন্তত ৫০-৬০ জনকে। এ ঘটনার পর রংপুরগামী সকল ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। রেললাইন থেকে স্লিপারগুলো সরে গেছে।
স্থানীয়রা আরো জানায়, সিগনাল না বুঝে দ্রুত গতিতে ট্রেন চালিয়ে যাচ্ছিলেন চালক। তার অবহেলার কারণে এ দূর্ঘটনা ঘটেছে। এ লাইন দিয়ে আক্কেলপুর, জয়পুরহাট, পাঁচবিবি, বিরামপুর, হিলি, সৈয়দপুর, নীলফামারি ও চিলাহাটিতে যাওয়া যায়। দুর্ঘটনার পর ট্রেনের যাত্রীরা যে যার মতো বিভিন্ন যানবাহনে করে গন্তব্যে চলে যান।
স্থানীয় ডুইন ইব্রাহিম নামে একজন বলেন, ‘গত ১৫-২০ দিন থেকে এ এলাকায় লাইন সংস্কারের কাজ হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে যেসব ট্রেন এ লাইন দিয়ে চলাচল করত তারা সাবধানে চলত। তবে এ স্থান থেকে এক কিলোমিটার দূরে লাল পতাকা টাঙানো আছে। কিন্তু চালক না বুঝে ট্রেন দ্রুত গতিতে চালিয়ে যাচ্ছিল। ইঞ্জিন পার হলেও বগি হুড়মুড় করে লাইন থেকে পড়ে যায়। এ সময় আতঙ্কে ছাদে থাকা যাত্রীরা লাফ দিয়ে নিচে পড়ে। এতে অনেকে হাতে পায়ে গুরুতর আহত হয়। ট্রেন চালকের ভুলের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।’
বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, ‘রাতের মধ্যেই ট্রেনটি উদ্ধার হবে বলে আশা করছি। যাত্রীদের নিরাপাত্তার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশের ব্যবস্থা রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তিরত অনেকে চিকিৎসা নিয়ে গন্তব্যে ফিরে গেছেন।’
