দীর্ঘ যানজটে থমকে আছে ঈদযাত্রা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দুই দিন পর দেশে হতে যাচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। এ সময় প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। তবে উৎসবের এই যাত্রায় বাগড়া দিয়েছে বৃষ্টি। যানবাহনের তীব্র চাপ ও মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট। বৃষ্টির সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের এই অপেক্ষায় হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল গড়াতেই শিল্পঅধ্যুষিত গাজীপুরের কয়েকশত শিল্প কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ছুটি পেয়েই কর্মজীবী এসব মানুষ নাড়ির টানে বাড়ির পথে রওয়ানা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা বাস টার্মিনাল এলাকায় বুধবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে বৃষ্টির বাগড়া উপেক্ষা করেই ঘরমুখো হাজার হাজার মানুষের ঢল নেমেছে। উত্তরাঞ্চলের ২৬ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই চন্দ্রা মোড়ে যাত্রীদের পাশাপাশি যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অতিরিক্ত গাড়ির চাপে চন্দ্রা টার্মিনালে প্রবেশপথ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় মহাসড়কের খাড়াজোড়া থেকে কালিয়াকৈরের কোনাবাড়ী উড়ালসড়ক পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের ৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নজিরবিহীন যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহনগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
দূরপাল্লার বাসে থাকা এক যাত্রী বলেন, ‘বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বের হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে গাড়িতে উঠেছি। এক ঘণ্টায় গাড়ি এক কিলোমিটার এগিয়েছে। ধীরে ধীরে যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৬ ঘণ্টার সড়ক ১২ ঘণ্টায় শেষ হবে কিনা তাই ভাবছি।’
সোহান ট্রাভেলসের চালক মাহতাবুর রহমান বলেন, ‘বৃষ্টি নামার সঙ্গে সঙ্গে যানজট বেড়ে গেছে। পুলিশ বাহিনী ঠিক মতো কাজ করছে না। এভাবে চলতে থাকলে যানজট ৫০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যাবে। এতে পরিবহন ও যাত্রী সকলের কষ্ট হবে।’
যানজটের ব্যাপারে নাওজোড় হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাউগাতুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
কয়েকজন হাইওয়ে পুলিশ সদস্যদের জানায়, ‘এখানে আমাদের কোনো দায়িত্ব নেই। যানজট বেঁধেছে এটা দেখার জন্য অন্য পুলিশ রয়েছে।’
