‘সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ নিজেই স্ব-ব্যাখ্যায়িত ও স্বচ্ছ একটি দলিল এবং এর বাস্তবায়নের একমাত্র পথ হল সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সংবিধানের সংশোধন, সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে অন্য কোনও পদ্ধতিতে এর বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের অষ্টম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের আনা এক মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
গণভোটের কিছু প্রক্রিয়াকে ‘ফ্রড অন দি কনস্টিটিউশন’ বা সংবিধানের ওপর প্রতারণা হিসেবেও অভিহিত করেন আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি পরতে পরতে, শিরা-উপশিরায় এই সংবিধানকে গ্রহণ করা হয়েছে। সনদের ১ থেকে ৪৭ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রতিটিতেই বলা হয়েছে— সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে এটি বাস্তবায়ন করতে হবে। যারা এই সনদ রচনা করেছেন, সেই ৩৩টি রাজনৈতিক দল একমত হয়েছিল যে, বিদ্যমান সংবিধানকে সামনে রেখেই সংযোজন-পরিমার্জন করা হবে। সুতরাং আলাদা কোনও সংস্কার পরিষদের প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও যোগ করেন, এভরি অ্যামেন্ডমেন্ট অব দি কনস্টিটিউশন ইজ এ রিফর্ম, বাট এভরি রিফর্ম ইজ নট অ্যান অ্যামেন্ডমেন্ট। জনআকাঙ্ক্ষা থেকে সংস্কার আসতে পারে, কিন্তু যখন ৩শ সংসদ সদস্য বসে তাকে চূড়ান্ত রূপ দেবেন, তখনই তা সংশোধনী হবে এবং সেটা হতে হবে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী।
গণভোট অধ্যাদেশের সমালোচনা করে মন্ত্রী পানের বরজের একটি রূপক গল্প উল্লেখ করে বলেন, পানের বরজ মালিকরা যেমন ওপরে-নিচে ভালো পান দিয়ে ভেতরে খারাপ পান ঢুকিয়ে দেয়, গণভোটের শিডিউলেও তেমনটি করা হয়েছে। গণভোট অধ্যাদেশের শিডিউলে যে ৩০টি বিষয়ের ওপর ঐকমত্যের কথা বলা হয়েছে, সেখানে ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদ (প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠন) ছিল না।
অথচ গণভোটের প্রশ্নে সেই বিষয়টি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি পরিষ্কারভাবে সংবিধানের ওপর প্রতারণা।
তিনি মাহমুদুল ইসলাম সাহেবের ‘কনস্টিটিউশনাল ল’বইয়ের রেফারেন্স দিয়ে বলেন, যে আইনের ক্ষমতা দেওয়া নেই কিন্তু দেখানো হচ্ছে ক্ষমতা আছে, তাকে বলা হয় ‘কালারেবল লেজিসলেশন’যা আইনত অকার্যকর বা ‘ভয়েড অ্যাব ইনিশিও’ (Void ab initio)।
আবেগঘন কণ্ঠে আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদ কোনও সাধারণ কাগজ নয়, এটি ১ হাজার ৪০০ মানুষের রক্তের আখরে লেখা। এই সনদের পেছনে ১৭ বছরের জুলুমের ইতিহাস আছে, ৪ হাজার ৫০০ সহযোদ্ধাকে ক্রসফায়ারে হত্যার বেদনা আছে, ৭০০ নিখোঁজ মানুষের স্বজনদের তাহাজ্জুদের জায়নামাজে কান্নার গল্প আছে।
বিএনপির লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গায়েরি মামলার যন্ত্রণা এখানে মিশে আছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি আমরা ১৯৭১-এর রক্তে অর্জিত সংবিধানকে অস্বীকার করি, যদি ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার করি, তবে এমন দিন আসবে যখন কেউ এই জুলাই সনদকেও অস্বীকার করবে। আমরা সেই পথ রেখে যেতে চাই না। আমরা আবু সাঈদ, মুগ্ধ, আনাসদের আত্মত্যাগকে সংবিধানের অংশ করতে চাই।
পরিশেষে আইনমন্ত্রী জুলাই সনদ নিয়ে রাজনীতি না করে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় একে বাস্তবায়নের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী।
