ডিসিসিআই
‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চাঁদার পরিমাণ বেড়েছে’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
‘২০২৪ সালে ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের আগে ব্যবসায়ীদের যে হারে চাঁদা দিতে হতো, পরেও সেই একই হারে চাঁদা দিতে হয়েছে; অনেক ক্ষেত্রে আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি চাঁদা দিতে হয়েছে। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও সরকারি দফতরে দুর্নীতি একদিনের জন্যও কমেনি।’
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) (ডিসিসিআই)-এর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমনটাই দাবি করেছেন সংগঠনের সভাপতি তাসকিন আহমেদ।
বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় নবগঠিত সরকারের কাছে নানা প্রত্যাশা তুলে ধরার প্রয়াস হিসেবে ব্যবসায়ী সংগঠনটি এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে।
সভাপতি তাসকিন আহমেদ চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, ‘রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও ব্যবসায়ীদের ওপর চাঁদাবাজির চাপ কমেনি, বরং ২০২৪ সালের ৬ আগস্টের পর আগের মতোই চাঁদা দিতে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আগের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হারে চাঁদা দিতে বাধ্য হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।’
এসময় তাসকিন আহমেদ অভিযোগের সুরে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও সরকারি দফতরে দুর্নীতির মাত্রা কমেনি, একদিনের জন্যও দুর্নীতি হ্রাস পায়নি।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে চাঁদাবাজি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায়, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।’’
বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নবগঠিত সরকারের কাছে চার দফা প্রত্যাশা তুলে ধরেন তিনি। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটির সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, এসব সমস্যা সমাধান না হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।
তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘চাঁদাবাজি দমন ও সরকারি দপ্তরের দুর্নীতি বন্ধে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে ঘোষিত এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।’
অর্থনীতিতে পুনরুজ্জীবন আনতে বেসরকারি খাতকে সক্রিয় করার ওপর জোর দিয়ে তিনি চারটি প্রস্তাব তুলে ধরেন— আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, দ্বিতীয়ত, সরকারি দপ্তরকে দুর্নীতিমুক্ত করা, ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় ব্যবসায় ফেরার সুযোগ দান ও প্রয়োজন হলে মূলধন সহায়তা, এবং ব্যাংকঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
ঢাকা চেম্বারের মতে, এসব পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে বিদ্যমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব হবে।
