যুদ্ধজাহাজে নতুন করে জ্বালানি-খাবার-গোলাবারুদ মজুত করছে যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
সংগৃহীত ছবি
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলোতে নতুন করে জ্বালানি, খাবার ও গোলাবারুদসহ প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহ করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্বরত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেন্টকমের শেয়ার করা কিছু ছবিতে দেখা যায়, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাক’-এ বিপুল পরিমাণ রসদ তোলা হচ্ছে।
এ রণতরি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে সহায়তা দিচ্ছে।
এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সংঘাত শুরুর ঘোষণা দেয়নি।
এদিকে, এ যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে মার্কিন সিনেটে তথ্য দিয়েছেন পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে এ পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি (২৫ বিলিয়ন) ডলার খরচ হয়েছে।
তবে বিভিন্ন সংস্থার মতে, প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ এই হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
অন্যদিকে, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা চলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে হামলা চালাতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের ওপর থেকে ইরানের আস্থা ‘পুরোপুরি নষ্ট’ হয়ে গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে এক ফোনালাপে মাসুদ পেজেশকিয়ান এ কথা বলেন। আনাদোলু এজেন্সির বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেজেশকিয়ান বলেন, সংলাপ ও কূটনীতি সব সময় ইরানের অগ্রাধিকার তালিকায় ছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, ‘(অতীতে) আলোচনা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র ও জায়োনিস্ট শাসনগোষ্ঠী (ইসরায়েল) দুইবার ইরানে হামলা চালিয়েছে। আবারও এ ধরনের হামলার আশঙ্কা রয়েছে। আর এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরান আর কোনো ভরসা রাখতে পারছে না।’
২০২৫ সালের জুনে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মধ্যে প্রথমবার ইরানে যৌথ হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে আবারও আলোচনা চলা অবস্থায় দ্বিতীয় দফা হামলার শিকার হয় তেহরান।
