যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সকল কূটনৈতিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করলো ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারির পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি সব ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ ছিন্ন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান ৩৮ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আবহে এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ‘পুরো সভ্যতাকে ধ্বংস’ করার হুমকি দিয়ে ট্রাম্পের দেওয়া আল্টিমেটামের সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তেহরান এই কঠোর অবস্থান নিল। এর ফলে আজ রাতে কোনো সম্ভাব্য চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ রুদ্ধ হয়ে গেল বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত সরাসরি আলোচনা বন্ধ করার মাধ্যমে ইরান এই বার্তাই দিয়েছে যে, প্রবল বিমান হামলা বা সামরিক চাপের মুখে তারা কোনো নতি স্বীকার করবে না।
কূটনৈতিক এই অচলাবস্থার মাঝেই মঙ্গলবার ইরানের একাধিক কৌশলগত শহরে ব্যাপক বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। তেহরান, কোম, ইসফাহান, খোররামাবাদ এবং শিরাজসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) অভিযান চালিয়েছে। হামলায় ইরানের অন্তত ৮টি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও জানিয়েছে, গত সপ্তাহে পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় একটি অত্যন্ত গোপনীয় চ্যানেলের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ব্যবহারিক যোগাযোগ বজায় ছিল। এই চ্যানেলের মাধ্যমেই কাতার থেকে এলএনজিবাহী দুটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আল্টিমেটামের পরিপ্রেক্ষিতে ইরান এখন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলাপ-আলোচনার সুযোগও পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি উল্লেখ করেছে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের দাবির প্রতি নিজেদের অনমনীয় মনোভাব ও অসম্মতি প্রকাশ করতেই তেহরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সরাসরি আলোচনা বন্ধ হলেও পরোক্ষ যোগাযোগের পথ এখনো পুরোপুরি রুদ্ধ হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ায় এখন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে সরাসরি রণক্ষেত্রের শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে। তেহরানের এই সিদ্ধান্তকে একটি পরিষ্কার সামরিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার ফলে যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনাগুলো বর্তমানে কার্যকারিতা হারিয়েছে। সব মিলিয়ে এই অঞ্চলে একটি ভয়াবহ সংঘাতের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
