ভাঙা ঘর, নোনা জল আর এক হার না মানা জীবন
মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ)
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
ছবি: নিজস্ব
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের আঠালিয়া গ্রামে ৭৫ বছর বয়সী জরিনা বেগম যেন এক জীবন্ত সংগ্রামের নাম। ভাঙা ঘর, অনিশ্চিত আগামী আর বুকভরা আতঙ্ক নিয়ে তিনি এখনো আঁকড়ে আছেন তার বহুদিনের বসতভিটা।
সম্প্রতি তার ঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য। সেই সঙ্গে বেড়েছে তার ভয়—কখন আবার কে এসে কেড়ে নেয় শেষ আশ্রয়টুকু। এখন তিনি তার মেয়ে রত্না আক্তারকে নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন চরম অনিশ্চয়তা আর দুশ্চিন্তায়।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙচুরের চিহ্ন এখনো বহন করছে তার বসতঘর। জরিনা বেগম কাঁপা কণ্ঠে জানান, “এই ভিটায় আমার জীবনের সব স্মৃতি। মায়ের ওয়ারিশ হিসেবে বহু বছর ধরে এখানে আছি। কিন্তু জমি বিক্রির পর থেকেই শুরু হয় আমার ওপর চাপ, ভয়ভীতি আর দখলের চেষ্টা।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিটি একাধিকবার হাতবদল হয়ে বর্তমানে প্রবাসী মিলনের দখলে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এরপর থেকেই শুরু হয় বারবার দখল-চেষ্টা। সর্বশেষ সোমবার (২০ এপ্রিল) একদল লোক এসে ঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
গ্রামবাসীরা জানান, আঠালিয়া মৌজার ৯২৩, ৯২৪ ও ৯২৯ দাগের ৬৬ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। একাধিকবার দখল-চেষ্টা ব্যর্থ হলেও সম্প্রতি একটি সমঝোতার কথা শোনা যাচ্ছে, যেখানে জরিনার জন্য ৫ শতাংশ জমি কিনে ঘর নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তবে সেই সমঝোতায় স্বস্তি পাচ্ছেন না জরিনা। তার চোখে ভয়, মনে সংশয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত আমি এই ভিটা ছাড়ব না।” নিজের এবং মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
অন্যদিকে অভিযুক্ত প্রবাসী মিলন দাবি করেন, “জরিনা বেগমের এখানে কোনো বৈধ মালিকানা নেই। তবুও মানবিক কারণে প্রায় ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পাশেই জমি কিনে তার থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে সিংগাইর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে বিষয়টি আপাতত মীমাংসার পথে রয়েছে বলে তিনি অবগত আছেন।
