×

ঢাকা

ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ২, মামলা দায়ের

Icon

মাহিদুল হোসেন সানি

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম

ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ২, মামলা দায়ের

ছবি: আসামি নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলের চাঁদনী হাউজিং এলাকায় ঝুট (ওয়েস্টিজ) ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনিসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন এনায়েতনগর ইউনিয়ন ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকা।

আহতরা হলেন, এনায়েতনগর ইউনিয়ন ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকার ছেলে রাকিবুল হাসান রাকিব (২৩) ও ইমরান (১৩) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্র। বর্তমানে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আসামিরা হলেন, ফাতেলপুর ডালডা গেটের পঞ্চবটীর নূর মোহাম্মদের ছেলে সারজিল আহম্মেদ অভি (৩০), সাং-চাঁদনী হাউজিং হরিহরপাড়া এলাকার মৃত. আ. গফুরের ছেলে আব্দুল হামিদ প্রধান (৫২), মাসদাইর গুদারাঘাটের সাং-কবি হুমায়ুন সড়ক এলাকার আবুল হোসেন খানের ছেলে মো. আব্দুস সালাম (৪০), সাং-মুসলিম নগর প্রেম রোডের আকাশ (২৮), সাং-শান্তিনগরের তোলাইল এলাকার হারুনের ছেলে সুমন মোল্লা ওরফে রকেট, সাং-পশ্চিম ধর্মগঞ্জ প্রাইমারি স্কুলের এলাকার মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে খায়রুল কবির জসিম (৫৫), হরিহরপাড়ার সাং-চাঁদনী হাউজিং এলাকার মৃত : আবু বক্করের ছেলে মো. ইয়াসিন (২৮), সাং-মাসদাইর এলাকার মোস্তফার ছেলে মশিউর রহমান রনি (৩৫), ধর্মগঞ্জের তালতলা চটলারমাঠ এলাকার মো. আলী রতন (৩৮), ধর্মগঞ্জের মাগুরা বাজারের সাহাবুদ্দিন বীরের ছেলে মো. মুরাদ হাসান (৩৮), পঞ্চবটীর ফাতেলপুর ডালডা গেটের মো. আজিজ মিয়ার ছেলে আদনান আজিজ প্রাঙ্গ (৩২) ও দেওভোগ মাদ্রাসার শেষ মাথা এলাকার মৃত ফারুক আহম্মেদের ছেলে পল্লব (৪৫)। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোসেন খোকার ছেলে রাকিবুল হাসান রাকিব পড়াশোনার পাশাপাশি এলাকায় ইট-বালুর ব্যবসা করতেন। ওই এলাকার ‘বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেড’ গার্মেন্টসের ঝুট মালামাল নামানো নিয়ে সারজিল আহম্মেদ অভি ও আব্দুল হামিদ প্রধানসহ বিবাদী পক্ষের সঙ্গে মালামাল ক্রেতাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, ৯ এপ্রিল সকালে ওই প্রতিষ্ঠানের সামনে বিপুল সংখ্যক লোক জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে হোসেন খোকা স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে সেখানে যান। তিনি গার্মেন্টসে প্রবেশের চেষ্টা করলে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে এবং গেটের বাইরে এনে এলোপাথাড়ি মারধর করে। এসময় আব্দুস সালাম ও আকাশ নামে দুই বিবাদী পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখান।

একপর্যায়ে বিবাদীদের নির্দেশে পিস্তল ও শটগান দিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি বর্ষণ এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করা হয়। পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনে বালু সরবরাহ করার সময় বাবার ওপর হামলার খবর পেয়ে রাকিব বাঁচাতে এগিয়ে গেলে সারজিল আহম্মেদ অভি তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি করেন। গুলিটি রাকিবের বুকের ডান পাশে বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। একই সময় বিবাদীদের ছোড়া গুলিতে ইমরান নামে এক পথচারী কিশোরও পেটে গুলিবিদ্ধ হয়।

গুরুতর আহত রাকিবকে প্রথমে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুলিবিদ্ধ মাদ্রাসা ছাত্র ইমরানকেও উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সংবাদ পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত ছেলের চিকিৎসা ও আসামিদের তথ্য সংগ্রহে সময় লাগায় এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানান বাদী হোসেন খোকা।

এদিকে, মামলায় নিজের নাম দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি।

তিনি বলেন, যখন ঘটনা তখন তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি ঘটনা শুনে তাৎক্ষণিক ফোন করেন পুলিশের বিভিন্নস্তরের কর্মকর্তাদের। তাদেরকে এ ব্যাপারে কঠোর হতে বলেন। কিন্তু মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে যা উদ্দেশপ্রণেদিত।

রনি বলেন, ‘আমি ঘুমে, তখন ঘটনা। ঘুমন্ত অবস্থায় আসামি হয়ে গেলাম। এর পেছনে নানা উদ্দেশ্য রয়েছে। বিশেষ করে গত নির্বাচনে আমি প্রার্থী হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দল এখানে জোটকে প্রার্থী দিয়েছে। তখন থেকেই আমি বিভিন্ন সভা সমাবেশে বলে আসছিলাম বিতর্কিত লোকজনদের যেন নির্বাচনের প্রচারণায় না রাখা হয়। কিন্তু রাখার কারণে কিন্তু আমাদের বদনাম হয়েছে। হয়তো তাদের কেউ কেউ এর পেছনে মদদ দিয়েছেন। খারাপ লোকজন তাদের পথ পরিষ্কার করতে আমাকে কোনঠাসা রাখার জন্য মামলা দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘শামীম ওসমান থাকতে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্য গুম করা হয়েছিল। অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে অমানবিক টর্চার করা হয়েছে। তখনই আমি দমে যাইনি। এখনো যাবো না। এত সহজে হারার মানুষ না। ছাত্রদলের ওয়ার্ড থেকে জেলা ও বর্তমানে যুবদলের দুইবার সদস্য সচিব। নিজের কর্মদক্ষতায় এখানে এসেছি। আমি কোন সন্ত্রাস লালন করি না বরং সব সময়ে এর বিরুদ্ধে। কেউ কেউ অনৈতিক সুবিধা নিতে না পেরে হয়তো আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। সেটা দল কিংবা দলের বাইরেও হতে পারে।’

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান,“একপক্ষ মামলা করেছে, অপর পক্ষও অভিযোগ দিয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে মূল অপরাধীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

৫ বছর পর মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ

৫ বছর পর মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ

হরমুজের মাইন অপসারণে সেনা পাঠাবে জাপান

হরমুজের মাইন অপসারণে সেনা পাঠাবে জাপান

পাভেল মাহমুদের কবিতাগুচ্ছ

পাভেল মাহমুদের কবিতাগুচ্ছ

সুজন আজমের কবিতাগুচ্ছ

সুজন আজমের কবিতাগুচ্ছ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App