ফলন ভালো ক্রেতা নেই, হতাশায় মাশরুম চাষীরা
মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পুষ্টিগুণে ভরপুর মাশরুম বর্তমানে একটি জনপ্রিয় 'সুপারফুড'। স্বল্প পুঁজি ও অল্প জায়গায় চাষ করা যায় বলে দেশজুড়ে এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দিন দিন বাড়ছে। নোয়াখলীতেও বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে উৎপাদিত পণ্যের পর্যাপ্ত বাজার না থাকায় লোকসানের শঙ্কায় হতাশ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় চাষীরা।
পুষ্টিবিদদের মতে, মাশরুম কেবল একটি সুস্বাদু খাবারই নয়, বরং এটি অনন্য পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্যানসার ও টিউমার প্রতিরোধ এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণসহ নানা শারীরিক জটিলতায় মাশরুম অত্যন্ত কার্যকর। স্বল্প পুঁজি ও সীমিত জায়গায় চাষ করা যায় বলে দিন দিন এর চাষাবাদ ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়নের পাটোয়ারী বাড়ি পোল এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি ব্যতিক্রমী মাশরুম খামার। অবসরপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সফি উল্যা ২০২৫ সালে অবসরে যাওয়ার পর নিজের দেড় শতাংশ জমিতে প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আধাপাকা ঘর নির্মাণ করে খামারটি শুরু করেন।
কৃষিবিদ সফি উল্যা বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর তার খামারে এখন নিয়মিত উৎপাদিত হচ্ছে সতেজ ও পুষ্টিকর মাশরুম। তবে মাশরুমের বহুবিধ স্বাস্থ্য উপকারিতা থাকলেও সাধারণ মানুষের মাঝে এখনো কিছু ভুল ধারণা রয়ে গেছে। সঠিক প্রচারণার অভাবে মাশরুমের কাঙ্ক্ষিত বাজার গড়ে ওঠেনি উল্লেখ করে এই কৃষিবিদ সরকারি উদ্যোগে বাজার সৃষ্টি এবং প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানোর দাবি জানান।
কৃষিবিদ সফি উল্যার পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় সফলতার মুখ দেখছে খামারটি। বর্তমানে প্রায় সাড়ে চার হাজার স্পন প্যাকেটের মধ্যে দেড় হাজার প্যাকেট থেকে নিয়মিত মাশরুম সংগ্রহ করা হচ্ছে। শীতের মৌসুমে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ কেজি মাশরুম উৎপাদন হলেও এখন সংগ্রহ হচ্ছে গড়ে ২ কেজি। যার বাজার মূল্য প্রতি কেজি ৩০০ টাকা।
খামারী সফি উল্যার ছেলে মো. নূর উল্যা বলেন, তার বাবার স্বপ্নের খামার থেকে তারা এখন নিয়মিত মাশরুম উৎপাদন করছেন। মাশরুমের ক্রেতা তৈরী হলে এবং বাজার ভালো থাকলে এই খামার আরও বড় করা সম্ভব বলে জানান তিনি।
সফি উল্যার খামারের মাশরুমের ভোক্তারা বলেন, আগে বন্য মাশরুম খাওয়ার ঝুঁকি থাকলেও এখন খামারে উৎপাদিত মাশরুম নিরাপদ ও পুষ্টিকর হওয়ায় তারা নিয়মিত তা গ্রহণ করছেন। মাশরুম গ্রহণে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণসহ ক্যানসার ও টিউমার প্রতিরোধে উপকার পাচ্ছেন। তবে মাশরুমের উপকারিতা সম্পর্কে সরকারিভাবে আরো প্রশিক্ষণের দাবি তোলেন তারা।
নোয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশীষ কুমার কর বলেন, পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাস প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে জেলায় ৬ জন উদ্যোক্তাকে মাশরুম চাষে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন তারা। এর মধ্যে মাশরুম চাষে সফল হয়েছেন কৃষিবিদ সফি উল্যা। তবে এখনো এই অঞ্চলের মানুষ মাশরুম খাওয়ায় অভ্যস্ত না হওয়ায় বাজার গড়ে ওঠেনি। মাশরুমের বাজার সম্প্রসারণে তারা বিভিন্ন সেমিনার, প্রচার-প্রচারণা করছেন বলেও জানান এই কর্মকর্তা। তাঁর দাবি- বাজার তৈরি হলে মাশরুম চাষে আরও উদ্যোক্তা এগিয়ে আসবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক প্রচার ও বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে নোয়াখালীতে মাশরুম চাষ হতে পারে লাভজনক একটি সম্ভাবনাময় খাত। যা পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখবে।
