মীরসরাইয়ে বলি খেলা দেখতে হাজারো দর্শকের ভিড়
মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
ছবি: নিজস্ব
মীরসরাইয়ের টেকেরহাটে ঐতিহ্যবাহী বলী খেলা দেখতে হাজার হাজার দর্শকের ভিড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া বলি খেলা দেখতে মীরসরাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাড়া পার্শ্ববর্তী সীতাকুন্ড, সোনাগাজী, ছাগলনাইয়া, ফেনী ও চট্টগ্রাম শহর থেকে দর্শক উপস্থিত হন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের টেকেরহাট এলাকায় প্রায় শতাধিক প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে মীরসরাইয়ে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী বলীখেলা। এতে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন জেলা থেকে বলীরা অংশগ্রহণ করেন। তবে দর্শকের বিশৃঙ্খলার অজুহাতে প্রথম ও দ্বিতীয় পুরস্কার নির্ধারণ স্থগিত রেখেই খেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন আয়োজক কমিটি।
বলীখেলা আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, শত বছরের বেশি সময় ধরে এই বলীখেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবারও স্থানী যু যুবকদের উদ্যোগে খেলার আয়োজন করা হয়। এবারের আসরে নোয়াখালীর মোশাররফ বলী, কুমিল্লার বাঘা শরিফ, রাশেদ, মাল, শাহজাহান ও টাইগার নয়ন; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তাহসহিন, আমিন বলী, বাদশা বলী এবং মীরসরাইয়ের লুদ্দাখালীর কামরুল বলীসহ অনেকেই অংশগ্রহণ করেছেন।
বলীখেলা উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইছাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মঞ্জুরুল হক। খেলার উদ্বোধন করেন ইছাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন।
বলীখেলা দেখতে বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চারদিক থেকে মানুষের ঢল নামে মাঠে। মাঠ ও আশপাশ এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। নারী, শিশু থেকে বৃদ্ধ-সব বয়সী মানুষের চোখ তখন মাঠের দিকে, যেখানে শুরু হয় শক্তি, সাহস ও কৌশলের লড়াই। খেলায় প্রধান আকর্ষণ ছিলেন চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলায় ২০২৪-২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ান বাঘা শরীফ। খেলায় অংশগ্রহণকারীদের পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় টিভি, বাইসাইকেল, সিলিং ফ্যান, গ্যাসের চুলা, খাঁচা ফ্যান, কলস, হটপটসহ বিভিন্ন সামগ্রী।
খেলায় অংশ নেওয়া কুমিল্লা থেকে আসা শাহজালাল বলী বলেন, ‘আমি অনেক বছর ধরে বলী খেলায় অংশ নিয়ে আসছি। আমার অনেক শিষ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বলী খেলায় নিয়মিত অংশ গ্রহণ করে। আজ আমি খেলায় অংশ গ্রহণ করে একটি বাইসাইকেল জিতলাম, খুবই ভালো লাগছে।’
আরেক প্রতিযোগী বাদশা বলী বলেন, ‘একসময় নিয়মিত বলী খেলায় অংশ নিতাম, তবে দীর্ঘদিন ধরে পেশাগত কারণে প্রবাসে থাকার কারণে খেলা মিস করেছি। এবার দেশে অবস্থান করার কারণে খেলার সুযোগ পেয়ে খুবই ভালো লাগছে।’
খেলায় অংশ নেওয়া কুমিল্লা থেকে আসা বাঘা শরীফ বলেন, ‘খেলায় অংশ নিতে আমি আরো কয়েকজন বলী নিয়ে দুপুরে টেকেরহাট আসি। প্রথম প্রতিযোগিতার খেলা মাঠে গড়ায় শেষ বিকেলে। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী মোশাররফ বলীকে আমি প্রথমে মাঠে ফেলে দিই, কিন্তু দুঃখের বিষয় পরবর্তীতে খেলাটি আর মাঠে গড়ায়নি। কর্তৃপক্ষ যদি মাঠে লাইটিং আর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি খেলা চালিয়ে নিতো তাহলে শেষ পর্যন্ত আমিই চ্যাম্পিয়ান হতাম।’
বলীখেলা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘প্রায় অর্ধলক্ষ দর্শক উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করেছেন। খেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শতাধিক বলী অংশগ্রহণ করেন।’
প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার আগেই সমাপ্তি ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দর্শকের বিশৃঙ্খলার কারণে প্রথম ও দ্বিতীয় খেলা অসমাপ্ত থাকায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। প্রথম ও দ্বিতীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বলিদের সম্মানী দেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।’
ইছাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মঞ্জুরুল হক মঞ্জু বলেন, ‘ইছাখালীতে ঐতিহ্যগতভাবে বলী খেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। বিগত কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর আবারো শত বছরের গ্রামীণ জনপদের জনপ্রিয় এই খেলার আয়োজন করা হয়েছে।’
এসময় মীরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাসুকুল আলম সোহান, ইছাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু নোমান, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন রুবেলসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
