যুবকের কোলে শিশু সাদমানের লাশ, যা জানা গেল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মহাখালী এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ডেডিকেটেড হাসপাতালের সামনে এক যুবকের কোলে ৩ বছর বয়সী শিশুর মরদেহ—এমন একটি ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
ছবিটি নিয়ে অনেকে ক্যাপশনে লেখেন, এটি সন্তানের মরদেহ কোলে দাঁড়িয়ে থাকা এক বাবার দৃশ্য। তবে পরে জানা যায়, এই তথ্য সঠিক নয়।
শিশুটির মা মিম আক্তার জানিয়েছেন, ছবিতে থাকা ব্যক্তি শিশুটির বাবা নন, বরং তার দুলাভাই রাফি। তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তার স্বামী মো. সজিব মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং বারবার অচেতন হয়ে যাচ্ছেন। সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার গভীর শোকাহত।
সাদমান সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, শিশুটি ছিল অত্যন্ত চঞ্চল ও প্রাণবন্ত। অসুস্থতার সময়ও সে মানসিকভাবে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করত, তবে সম্প্রতি জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
মিম আক্তার হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, চিকিৎসায় অবহেলা করা হয়েছে, নার্সদের বারবার ডাকলেও সাড়া পাওয়া যায়নি এবং অক্সিজেন ব্যবস্থাপনায় সমস্যার সময়ও যথাযথ সহযোগিতা মেলেনি। আইসিইউতে অবস্থার উন্নতির কথা জানানো হলেও বাস্তবে তেমন উন্নতি হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন। পাশাপাশি পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়েও সঠিক তথ্য দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, শিশুটির দুলাভাই রাফি জানান, মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি দ্রুত হাসপাতালে যান এবং মরদেহ নিয়ে বের হন। পরিবহন ও সময় বাঁচাতে তারা সিএনজি অটোরিকশা ব্যবহার করেন। পথে ফ্লাইওভার পার হওয়ার সময় দুইজন ব্যক্তি শিশুটির পরিচয় জানতে চাইলে তিনি সংক্ষেপে উত্তর দেন।
এদিকে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডা. আসিফ হায়দার জানান, গত ১৬ এপ্রিল কামরাঙ্গীরচর থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ১৮ এপ্রিল তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, পরে শিশুটির শরীরে নিউমোনিয়া ও সেপটিসেমিয়ার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে, যা অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করে। পেডিয়াট্রিক ও আইসিইউ বিশেষজ্ঞদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হলেও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
