যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান চীনের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের সমালোচনা করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। একই সঙ্গে ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা ও বাইরের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (৮ মার্চ) বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়াং ই বলেন, সামরিক শক্তি ব্যবহার করে বর্তমান সংকটের কখনোই সমাধান হবে না। সংঘাতের বদলে কূটনৈতিক পন্থায় সংকট উত্তরণের ওপর জোর দেন তিনি। তিনি বলেন, বিশ্ব আবারও জোর যার, মূল্লুক তার এমন শাসনে ফিরে যেতে পারে না।
ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বক্তব্য বিষয়ে ওয়াং ই বলেন, রঙিন বিপ্লব বা ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রতি সেখানকার জনগণের কোনো সমর্থন নেই। মূলত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি সম্ভব।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ইরানসহ সব দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে যাতে সংঘাত আরো না বাড়ে এবং অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে।
ওয়াং বলেন, এটি এমন একটি যুদ্ধ যা কখনও হওয়া উচিত ছিল না এবং এই যুদ্ধ কারও কোনো উপকার করছে না। শক্তি কোনো সমাধান দেয় না; সশস্ত্র সংঘাত কেবল ঘৃণা বাড়ায় এবং নতুন সংকট তৈরি করে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জনগণই এই অঞ্চলের প্রকৃত মালিক, তাই এই অঞ্চলের বিষয়গুলো স্থানীয় দেশগুলোকেই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে দেয়া উচিত, বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়া।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্স কাউন্সিলের এক গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি বড় ধরনের সামরিক হামলাও চালায়, তবুও ইরানের সামরিক ও ধর্মীয় ক্ষমতার কাঠামো সহজে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা কম।
কূটনৈতিকভাবে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়ে ওয়াং ই বলেন, সব পক্ষের দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা উচিত, সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য সমাধান করা এবং যৌথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করা প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, চীন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, মানুষের শান্তি নিশ্চিত করা এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়। এর আগে গত বুধবার (৪ মার্চ) ওয়াং ই বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যস্থতার জন্য একজন বিশেষ দূত পাঠাবে চীন।
