জন্ম এক দেশে, বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অন্য দেশের হয়ে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ফুটবলের এই বিশ্বায়নের যুগে অনেক খেলোয়াড়ই নিজেদের জন্মভূমির পরিবর্তে অন্য দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিনিধিত্ব করছেন। বিশেষ করে ফ্রান্স, জার্মানি কিংবা ইতালির মতো দলগুলোতে এমন বহু তারকা রয়েছেন, যারা অন্য দেশে জন্ম নিয়েও সেই দেশের হয়ে ফিফা বিশ্বকাপ জিতেছেন। বিশ্বকাপ জয়ী ২২টি দলের মধ্যে অন্তত ১০টিতে এমন খেলোয়াড় আছেন, যাদের জন্ম দেশের বাইরে।
ইতালি, ১৯৩৪
আত্তিলিও ডেমারিয়া (আর্জেন্টিনা): জন্ম আর্জেন্টিনায় হলেও ইতালির হয়ে বিশ্বকাপ জেতেন।
এনরিকো গুয়াইতা (আর্জেন্টিনা): সেমিফাইনালে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয়সূচক গোল করেন।
লুইস মন্টি (আর্জেন্টিনা): একমাত্র খেলোয়াড় যিনি দুই দেশের হয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছেন। ১৯৩০ সালে আর্জেন্টিনা ও ১৯৩৪ সালে ইতালির হয়ে খেলেন তিনি।
রাইমুন্ডো ওরসি (আর্জেন্টিনা): ফাইনালে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে সমতাসূচক গুরুত্বপূর্ণ গোল করেন।
আনফিলোজিনো গুয়ারিসি (ব্রাজিল): ‘ফিলো’ নামে পরিচিত, জন্ম ব্রাজিলে হলেও ইতালির হয়ে খেলেছেন।
ফেলিস বোরেল (ফ্রান্স): জন্ম ফ্রান্সে হলেও ইতালির ফুটবলে কিংবদন্তি হিসেবে পরিচিত।
মারিও ভার্গলিয়ান (অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি; বর্তমান ক্রোয়েশিয়া): ফিউমে (বর্তমান রিজেকা) এলাকায় জন্ম।
ইতালি, ১৯৩৮
মিগুয়েল আন্দ্রেওলো (উরুগুয়ে): উরুগুয়েতে জন্ম, পরে ইতালিতে গিয়ে বিশ্বকাপ জয়ী দলের অন্যতম প্রধান মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেন। তিনি বিশ্বের সেরা ‘সেন্টার-হাফ’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
উরুগুয়ে, ১৯৫০
আর্নেস্তো ভিদাল (ইতালি/বর্তমান ক্রোয়েশিয়া): ‘এল পাত্রুল্লেরো’ ডাকনামে পরিচিত এই খেলোয়াড় ঐতিহাসিক ‘মারাকানাজো’ ম্যাচে ব্রাজিলকে হারানো উরুগুয়ে দলে ছিলেন।
পশ্চিম জার্মানি, ১৯৫৪
রিচার্ড হারমান (পোল্যান্ড): পোল্যান্ডে জন্ম, গ্রুপ পর্বে হাঙ্গেরির বিপক্ষে খেলেন।
জোসেফ পোসিপাল (রোমানিয়া): রোমানিয়ার লুগোজে জন্ম, ১৯৫৪ সালে মিরাকল অব বার্নে জার্মানির রক্ষণভাগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন।
পশ্চিম জার্মানি, ১৯৭৪
হার্বার্ট উইমার (বেলজিয়াম): জন্ম বেলজিয়ামে, তবে পশ্চিম জার্মানির হয়ে খেলেন। ডাকনাম ‘হাকি’ এবং ‘আইরন লাং’।
ইতালি, ১৯৮২
ক্লাউদিও জেন্টিলে (লিবিয়া): ত্রিপোলিতে জন্ম নেওয়া এই ডিফেন্ডার ১৯৮২ সালে ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী দলের একজন প্রধান রক্ষণভাগের খেলোয়াড়। তাকে বিশ্বের অন্যতম কঠোর ডিফেন্ডার হিসেবে মনে করা হয়।
ফ্রান্স, ১৯৯৮
মার্সেল দেশাইলি (ঘানা): জন্ম আক্রায় (ঘানা), তবে ফ্রান্সের রক্ষণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ফাইনালে লাল কার্ডও পেয়েছিলেন।
প্যাট্রিক ভিয়েরা (সেনেগাল): জন্ম ডাকারে, ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে অ্যাসিস্ট করেছিলেন এবং পরে ২০০৬ বিশ্বকাপেও ফ্রান্সের হয়ে অসাধারণ খেলেছিলেন।
ইতালি, ২০০৬
মাউরো কামোরানেসি (আর্জেন্টিনা): জন্ম আর্জেন্টিনায়, কিন্তু ইতালির হয়ে ফাইনালে খেলেছেন এবং বিশ্বকাপ জয়ী হয়েছেন।
সিমোনে পেরোত্তা (ইংল্যান্ড): ইংল্যান্ডে জন্ম হলেও ইতালির হয়ে সাত ম্যাচেই শুরুর একাদশে খেলেছেন।
জার্মানি, ২০১৪
মিরোস্লাভ ক্লোসা (পোল্যান্ড): পোল্যান্ডে জন্ম, পরে জার্মানিতে চলে যান। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা (১৬ গোল)।
লুকাস পোডলস্কি (পোল্যান্ড): জন্ম পোল্যান্ডে, ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ী দলের অন্যতম অভিজ্ঞ খেলোয়াড়।
টনি ক্রুস (পূর্ব জার্মানি): পূর্ব জার্মানিতে জন্ম, একীভূত জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপ জয়ী অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার।
ফ্রান্স, ২০১৮
স্টিভ মান্দান্দা (জায়ারে; বর্তমান কঙ্গো ডিআর): আফ্রিকায় জন্ম, ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ী।
স্যামুয়েল উমতিতি (ক্যামেরুন): জন্ম ক্যামেরুনে, ২০১৮ সালে ফ্রান্সের সেমিফাইনালে জয়সূচক গোল করেন এবং দলের জয় নিশ্চিত করেন।
এই তালিকা এটাই প্রমাণ করে ফুটবলে জন্মভূমি আর আন্তর্জাতিক সাফল্যের মধ্যে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। খেলোয়াড়রা যেখানে সুযোগ পায়, সেখানে গিয়ে গৌরব অর্জন করতে পারেন এবং সেই দেশের হয়ে ইতিহাস গড়ে দিতে পারেন। বিশ্বকাপ জেতা দলের অনেক তারকা যাদের জন্ম অন্য দেশে, তাদের কাহিনী ফুটবলের বৈশ্বিকত্ব এবং প্রতিভার বহুমাত্রিক প্রমাণ।
