ফারহানা ইলিয়াস তুলির এক জোড়া কবিতা
ফারহানা ইলিয়াস তুলি
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
ফারহানা ইলিয়াস তুলির এক জোড়া কবিতা
গল্পটি প্রেমের নয়
জগতে যুদ্ধ এবং প্রেম পাশাপাশি হাঁটে। আঁধারে বিদ্যুত
চমকালে মানুষ যেমন আলোড়িত হয়, তেমনি যুদ্ধের কথা
এলেই বুকের আগুন, ফুলকি ওড়ায়। রক্তে একধরণের
উজ্জ্বলতা, পাঁজরকে দেখায় সাহসের ভিন্ন মানচিত্র।
অথবা অন্যমাত্রা কিংবা রাগে কিছু সুর নির্মাণের কৌশলও
আমরা শিখে নিতে পারি, বারুদের সান্নিধ্য থেকে।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরায় যে যুদ্ধাহত শিশু-
সে হয়তো জানে না, গতরাতে সমাধিস্থ হয়েছেন তার
পিতা-মাতা। যারা প্রেমের পরমে তাকে আঁকড়ে রেখেছিলেন!
সকল গল্পই প্রেমের হয় না। সকল যুদ্ধও হয় না বিজয়ের!
অথচ এরপরেও আততায়ী আগ্রাসন গাল ফুলিয়ে,
বিশ্বকে যুদ্ধজয়ের মিথ্যে কাহিনী শোনায়! আর বলে,
আমি চাইলেই দশঘন্টায় গোটা পৃথিবীতে
নামাতে পারি কৃত্রিম রক্তান্ধকার !
তৃতীয় তুষারপাত
শাদা বরফ পুরোনো হলেই কয়লা রঙ ধারণ করে।
তুষারপাতের দুপুর, মাটিকে যখন ঢেকে দেয়-
তখন মনে হয় বিশ্বে এখন বুঝি শান্তির পিন পতন
নীরবতা ! মনে হয়, কাঁথামুড়ি দিয়ে যারা পাতালস্টেশনে
শুয়েছিল- তারা জানেই না, বাইরে ঘটে গেছে এক
মহাবিপ্লবী তুষারকাণ্ড !
প্রথম কিংবা দ্বীতীয়টি শেষ হলেই আমি,
তৃতীয় তুষারপাতের জন্যে আকাশের দিকে
হাত তুলি। করি আঝোর প্রার্থনা।
বলি- হে দ্বীন-দুনিয়ার মালিক, তুমি আরেকটি
বরফঝড় দাও। দাও আরেকটি বিজলীমোহিত রাত।
ভোর হোক। বিশ্বের মানুষ জেগে দেখুক-
জগতে সবগুলো কালোহাত চিরতরে অবশ হয়ে গেছে!
