হাম-ডেঙ্গু মোকাবেলায় প্রস্তুত সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সারাদেশে হাম ও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়লেও পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বক্ষব্যাধি হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ভ্যাকসিন বা মানবসম্পদ -কোনোটিরই ঘাটতি নেই। নির্ধারিত বাজেট থাকলেও গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতে তা যথাযথভাবে ব্যয় হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আসন্ন বাজেটে সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি, আগামী মে মাসের মধ্যেই হামের প্রকোপ কমে আসবে বা শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৬ লাখ জিনএক্সপার্ট কার্টিজ এবং ১১ হাজার শিশুর জন্য যক্ষ্মা প্রতিরোধী ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে, যা যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। ভ্যাকসিন ও সিরিঞ্জের কোনো সংকট নেই এবং সেগুলো দ্রুত দেশের সব কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
পোলিও ভ্যাকসিন সংকট সংক্রান্ত একটি সংবাদকে ভুল দাবি করে মন্ত্রী বলেন, মিরপুর নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এ ধরনের কোনো সংকট ছিল না। তার মতে, বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি থেকে তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত অর্থ থাকা সত্ত্বেও গত ১৭ বছরে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে বর্তমান সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে।
হামের টিকাদান কার্যক্রম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গত ছয় বছর শিশুদের নিয়মিত টিকাদান হয়নি। জরুরি ভিত্তিতে তা পুনরায় চালু করা হয়েছে। ইউনিসেফ, গ্যাভি, বিশ্বব্যাংক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, সারাদেশে টিকাদান কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের আগেই শুরু করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৬১ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ শিশু এই টিকার আওতায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। যেসব উপজেলায় আগে টিকাদান শুরু হয়েছে, সেখানে এখন আর হামের রোগী নেই বলেও জানান তিনি।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিনি বলেন, রোগীর চাপ সামলাতে অস্থায়ী তাঁবুর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগামীকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠে তাঁবু স্থাপন শুরু হবে। পাশাপাশি, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনকে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই ডেঙ্গু বিস্তার রোধে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
