পহেলা বৈশাখে ‘মঙ্গল’ নামেই ধানমন্ডিতে শোভাযাত্রা
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত
‘জাগাও পথিকে, ও সে ঘুমে অচেতন’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে ধানমন্ডি ২৭ মীনা বাজার সংলগ্ন সড়কে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে এক বর্ণিল ও আনন্দঘন বর্ষবরণ উৎসব।
পহেলা বৈশাখের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার উদ্দেশে এ অনুষ্ঠানে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে মঙ্গল শোভাযাত্রা, সঙ্গীত পরিবেশনা, নৃত্য এবং বাঙালির চিরায়ত লোকজ সংস্কৃতির বিভিন্ন উপস্থাপনা। সকাল ৯টায় মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হবে, যা চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সংস্কৃতিকর্মী ও শিল্পীরা অংশগ্রহণ করবেন। বর্ষবরণ পর্ষদের পক্ষ থেকে সর্বসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করা হয়েছে।
আয়োজকদের মতে, বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতির ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এ আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য।
আশির দশকে পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে যে শোভাযাত্রা বের হত, পরে তা ‘মঙ্গল শোভাযাত্রায়’ রূপ নেয়। ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর এই শোভাযাত্রাকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয়।
আরো পড়ুন : নববর্ষে দেশজুড়ে সরকারের ব্যাপক কর্মসূচি
গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠী ‘মঙ্গল শোভাযাত্রার’ বিরোধিতা শুরু করে। ২০২৫ সালে চারুকলার শোভাযাত্রার নাম থেকে ‘মঙ্গল’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। নতুন নামকরণ হয় ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’।
এবার এ শোভাযাত্রার নাম ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। নববর্ষ বরণে ওইদিন সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে এ শোভাযাত্রা হবে। নাম পরিবর্তনের বিষয়ে গেল ৫ এপ্রিল সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সচিবালয়ে বলেন, পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার নাম নিয়ে যে বিতর্ক, আমরা তার অবসান চাই। পহেলা বৈশাখ মূলত সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ও কৃষকের উৎসব। আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ গণতান্ত্রিক সরকার। গণতন্ত্রে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য থাকবে। এখন থেকে নববর্ষের শোভাযাত্রা ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে অনুষ্ঠিত হবে।
