রাজধানীতে ইসকন মন্দিরে হামলা ভাঙচুরের অভিযোগ

কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২২, ০৫:৫৭ পিএম

ইসকন মন্দিরের জায়গায় একটি দোকান ঘরের দেয়াল ভেঙে ফেলার অভিযোগ ওঠেছে। ছবি: বিবিসি বাংলা
রাজধানীর ওয়ারীতে ইসকনের রাধাকান্ত জিউ মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশ বলছে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায় একদল জনতা ওই মন্দিরের জায়গায় থাকা একটি দোকান ঘরের দেয়াল ভাঙছে। তবে এ ভিডিওর সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি ভোরের কাগজ।
মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, মন্দিরের জায়গায় থাকা একটি দোকান ঘর ভেঙে ওই জায়গা দখলের চেষ্টা করছেন শামস শফিউল্লাহ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি শতাধিক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে জায়গাটি দখল করতে আসেন এবং ভাঙচুর চালান।
ওই ঘরের দেয়াল ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক রুপানুগ প্রভু। ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে জানান তিনি।
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বলেছে, মন্দিরের জমি নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহলের সাথে বিরোধ থেকে এই হামলা হয়েছে। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের একটি দল আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মন্দিরটির সীমানা প্রাচীরের একটি অংশ ভাঙা ছাড়া মূর্তি নেয়া বা লুটপাটের কোন তথ্য পায়নি। ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ তাদের সংগঠনের ঐ টিমের নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি বলেছেন, সেখানে পরিদর্শন করে তারা শুধু দেখতে পেয়েছেন যে মন্দিরটির প্রাচীন জরাজীর্ণ সীমানা দেয়ালের একটা অংশ হামলাকারীরা ভেঙেছে। সে সময় বাধা দিতে গিয়ে পুরোহিতের দু'জন সহকারী আহত হয়েছেন। এছাড়া মন্দিরের ভেতরে হামলাকারীদের অন্য কোন অঘটন ঘটানোর কোন তথ্য তারা পাননি।
কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে, সে ব্যাপারে অবশ্য সবপক্ষই জমি নিয়ে বিরোধের কথা বলেছে।
এদিকে স্থানীয় পুলিশ বলছে, হামলার অভিযোগ সঠিক নয়। জমির মালিকানা দাবিদার একটি পক্ষ সেখানে সংস্কার কাজ করার সময় পুরোনো দেয়াল ভেঙে পড়েছে।
ডিএমপি ওয়ারি বিভাগের উপ-কমিশনার শাহ ইফতেখার আহমেদ বলেন, ওই জমির মালিকানা নিয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষ যে মামলা করেছিল আদালত তা খারিজ করে দিয়েছে। খারিজ করার পর ২২২-এর ৩ নম্বর দাগের জমিতে মালিকানার দাবিদার শামস শফিউল্লাহর লোকজন এসেছিলেন। গলির মুখে একটি টিনশেড দোকান ছিল, যা দীর্ঘদিন মামলার কারণে বন্ধ ছিল। শফিউল্লাহর লোকজন সেখানে একটি দেয়াল ভেঙেছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।