পেন্টাগনের দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধে ইরানের ক্ষতি ৪৮০ কোটি ডলার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ। ছবি- সংগৃহীত
ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌ-অবরোধের মুখে পড়ে ইরান প্রায় ৪৮০ কোটি (৪.৮ বিলিয়ন) ডলারের তেল রাজস্ব হারিয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। শনিবার (২ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের কারণে তেহরানের অর্থনীতিতে নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের মতে, এই অবরোধে এ পর্যন্ত ৪০টিরও বেশি তেলবাহী জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে। বর্তমানে ৩১টি ট্যাংকার প্রায় ৫৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে ওমান উপসাগরে আটকা পড়ে আছে, যার বাজারমূল্য অন্তত ৪৮০ কোটি ডলার। এর মধ্যে দুটি জাহাজ ইতিমধ্যে জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের তেল সংরক্ষণ ক্ষমতাকে পূর্ণ করে দিয়ে দেশটিকে তেল উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য করা।
বর্তমানে ইরানের তেল সংরক্ষণাগারগুলো প্রায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় নতুন উৎপাদিত তেল রাখার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরান এখন পুরোনো ট্যাংকারগুলোকে ‘ভাসমান স্টোরেজ’ হিসেবে ব্যবহার করছে। ট্যাংকার-ট্র্যাকার্স ডটকমের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সামির মাদানি জানান, ‘হিউজ’ ও ‘স্নো’ নামের দুটি বিশাল ট্যাংকার মার্কিন নজরদারি এড়িয়ে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের উপকূল ঘেঁষে চীন যাওয়ার চেষ্টা করছে। চাবাহার বন্দরের কাছে আরও ডজনখানেক জাহাজ সুযোগ বুঝে পালানোর অপেক্ষায় নোঙর করে আছে।
ইউরেশিয়া গ্রুপের বিশ্লেষক গ্রেগরি ব্রু বলেন,'ইরানের তেল রাখার জায়গা সম্ভবত আর কয়েক সপ্তাহ বা সর্বোচ্চ এক মাস অবশিষ্ট আছে।' কলোম্বিয়া সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে ইরানের তেলের মজুত ৬০ লাখ ব্যারেলের বেশি বেড়েছে। উৎপাদন বন্ধ করা তেহরানের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এতে ভূগর্ভস্থ খনির প্রাকৃতিক চাপ কমে ভবিষ্যতে তেল উত্তোলন কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়তে পারে।
জ্বালানি যুদ্ধের এই ডামাডোলে ইরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে জাহাজ চলাচল থামিয়ে দিয়েছে, যার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ওমান উপসাগরের প্রবেশপথে এই পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে।
