বিজেপির বিরুদ্ধে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ, যা বলছে নির্বাচন কমিশন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে ইভিএম কারচুপির অভিযোগে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে কারচুপির গুরুতর অভিযোগ তোলার পর বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি ইভিএম স্ট্রংরুম পরিদর্শনে যান।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দলের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতেই ব্যালট বক্স খোলা হয়েছে। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) এই অভিযোগ নাকচ করে জানিয়েছে, খুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের সাতটি স্ট্রংরুম যথাযথভাবে সিল করা হয়েছে। কমিশন দাবি করেছে, প্রার্থী ও নির্বাচনী এজেন্টদের উপস্থিতিতেই ভোর ৫টা ১৫ মিনিটের মধ্যে সিল করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা বজায় রাখতে পুরো প্রক্রিয়াটি ইমেইলের মাধ্যমে জানানো হয়েছে এবং সিসিটিভি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে ৪ মে ভোট গণনাকে সামনে রেখে বিভিন্ন সংস্থার বুথফেরত জরিপ বা 'এক্সিট পোল' নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জনমত জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ‘টুডেজ চাণক্য’ তাদের বিশ্লেষণে বিজেপিকে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রেখেছে। তাদের বিশ্লেষণে বিজেপির বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। আর এটিকে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ১৯২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)+ জোটের আসন কমে দাঁড়াতে পারে ১০০ ± ১১-এ, ভোটের হার প্রায় ৩৮ শতাংশ। এতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতাসীন সরকারের জন্য বড় ধরনের ধাক্কার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৪৮ আসন। এক্সিট পোলগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস থাকলেও বেশিরভাগ জরিপে বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পিপলস পালস ও জনমত— এই দুটি সংস্থা মমতার দল জয় পেতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে।
পিপলস পালসের হিসাবে মমতার টিএমসি ১৭৭-১৮৭ আসন, বিজেপি ৯৫-১১০, বামফ্রন্ট ০-১ এবং কংগ্রেস ১-৩ আসন। অন্যদিকে জনমতের পূর্বাভাস অনুযায়ী, টিএমসি ১৯৫-২০৫, বিজেপি জোট ৮০-৯০ এবং কংগ্রেস ১-৩ আসন।
পশ্চিমবঙ্গের এই হাইভোল্টেজ নির্বাচনে জয়ের জন্য ১৪৮টি আসন প্রয়োজন। এক্সিট পোলগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র উঠে আসায় জনমনে কৌতূহল বাড়ছে। বর্তমানে স্ট্রংরুমগুলো কঠোর নিরাপত্তার বলয়ে ঢাকা রয়েছে এবং গণনা শুরুর আগ পর্যন্ত এই ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
