ওয়াশিংটন পোস্ট
ইরানে আটক আমেরিকানদের মুক্তির দাবি জানাবে যুক্তরাষ্ট্র
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আসন্ন বৈঠকে যুদ্ধ নিরসনের পাশাপাশি তেহরানে বন্দি মার্কিন নাগরিকদের মুক্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করার পরিকল্পনা করছেন যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি নিয়ে কতটা জোরালোভাবে চাপ দেবে তা স্পষ্ট নয় এবং আলোচনার গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করে বিষয়টি কম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়তে পারে।’
দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা স্থায়ীভাবে নিরসনের লক্ষ্যে এখন ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।
এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে একটি টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে রূপ দিতে আগামী শনিবার (১১ এপ্রিল) ইসলামাবাদে বৈঠকে বসছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।
বর্তমানে বৈঠকের বিস্তারিত এজেন্ডা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারীদের একটি তালিকা প্রকাশ করলেও শেষ মুহূর্তে তাতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার মতপার্থক্য এখনো অনেক স্পষ্ট।
ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুট 'হরমুজ প্রণালি' পুনরায় খুলে দেওয়া।
"অন্যদিকে, তেহরানের পক্ষ থেকে ১০ দফা পাল্টা পরিকল্পনা পেশ করা হয়েছে। যেখানে তারা হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, উক্ত জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপ, এই অঞ্চলের সকল সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং ইরানের ওপর আরোপিত সকল নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে লেবানন ইস্যুটি এখন একটি বড় জটিলতায় রূপ নিয়েছে। অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও লেবাননে, বিশেষ করে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে ইসরায়েল ব্যাপক হামলা অব্যাহত রেখেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পাকিস্তানের এই অবস্থানকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বলেছেন, ‘ইরানের পক্ষ থেকে লেবানন বিষয়টি নিয়ে ‘যৌক্তিক ভুল বোঝাবুঝি’ হয়ে থাকতে পারে। তবে এ নিয়ে যুদ্ধবিরতি আলোচনা এড়িয়ে যাওয়া তাদের জন্য ‘বোকামি’ হবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক এক্স বার্তায় সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা চলতে থাকায় এই আলোচনা ‘অর্থহীন’ হয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের হাত এখনও ট্রিগারেই রয়েছে। ইরান কখনোই তাদের লেবাননের ভাই-বোনদের ত্যাগ করবে না।’
এদিকে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইতিমধ্যে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ওয়াশিংটন ডিসিতে এয়ারফোর্স টুতে ওঠার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই সফরের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ‘ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তাকে ‘খুবই স্পষ্ট নির্দেশনা’ দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘এই আলোচনা নিয়ে তিনি ‘আশাবাদী’।’
ভ্যান্স বলেন, ‘তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য এই আলোচনা ‘ইতিবাচক’ হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। একইসঙ্গে ইরানকে সতর্ক করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট।’
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ইরান যদি আমাদের নিয়ে প্রতারণা করতে চায়, তবে দেখবে যে এই আলোচক দলটি তাদের প্রতি মোটেও সহানুভূতিশীল নয়।’
