পশ্চিমবঙ্গে নজিরবিহীন পরিস্থিতি, রাষ্ট্রপতি শাসনের শঙ্কা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
ছবি : সংগৃহীত
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় পরাজয়ের পরও একে ‘পরাজয়’ হিসেবে মানতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ কারণে তিনি লোকভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ১২টায় সাংবিধানিকভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে তার সরকারের মেয়াদ। এরপর কী হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ, বিজেপি নেতৃত্ব ঘোষণা করেছে আগামী ৯ মে শনিবার, রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিন নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে।
তৃণমূল নেত্রী শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থানে অনড় থাকলে আগামীকাল ৮ মে শুক্রবার, অর্থাৎ নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগের ২৪ ঘণ্টা পশ্চিমবঙ্গে ব্যতিক্রমীভাবে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে বলে মত দিয়েছেন প্রবীণ আইনজ্ঞরা। তাদের মতে, ভারতের ইতিহাসে এর আগে এমন পরিস্থিতির নজির নেই।
ভারতের সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর শাসকদল পরাজয় নিশ্চিত হলে মুখ্যমন্ত্রী রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করেন। সংসদীয় রাজনীতিতে এটিকে সাংবিধানিক সৌজন্যের অংশ হিসেবে দেখা হয়। এরপর রাজ্যপাল নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে কেয়ারটেকার সরকারের দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান। তবে কেয়ারটেকার সরকার কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষেত্রেও একই রীতি অনুসরণ করা হয়।
আরো পড়ুন : ‘ওরা আমাকে বরখাস্ত করুক’, মমতার হুঙ্কার
তামিলনাড়ুতেও ডিএমকে সরকারের মেয়াদ শেষ হয়েছে বুধবার (৬ মে)। সেখানে এখনো নতুন সরকার শপথ নেয়নি। তবে বাংলার সঙ্গে তামিলনাড়ুর পার্থক্য হলো, পরাজয়ের পর এম কে স্ট্যালিন ও তাঁর সরকার পদত্যাগ করেছেন। পরে রাজ্যপাল তাকেই কেয়ারটেকার সরকারের দায়িত্ব দিয়েছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এখনো সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।
সংবিধান অনুযায়ী, রাজ্যপালের সদিচ্ছার ভিত্তিতেই একটি রাজ্য সরকার গঠিত হয়। আইন অনুসারে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিদায়ী সরকার আর এক মুহূর্তও ক্ষমতায় থাকতে পারে না। ফলে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ না করলে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বুধবারই ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচিত বিধায়কদের গেজেট নোটিফিকেশন রাজ্যপালের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই তালিকার ভিত্তিতে রাজ্যপাল সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন এবং তাদের নেতা বা মুখ্যমন্ত্রীর নাম জানতে চাইবেন। পাশাপাশি তারা কবে শপথ নিতে চায়, সেটিও নির্ধারণ করা হবে। ইতোমধ্যে বিজেপি ৯ মে শপথ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও ভারতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হরিশ সালভে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল চাইলে ৭ মে নিজেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ চাইতে পারেন। বিধানসভার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তিনি আর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বহাল থাকতে পারবেন না। রাজ্যপালের নির্দেশে পদত্যাগ করলে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তাকে কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানানো যেতে পারে। তবে তিনি যদি পদত্যাগ না করেন, তাহলে সাময়িক সময়ের জন্য হলেও পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে।
