রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি বেড়েছে ৯০ শতাংশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
ছবি : সংগৃহীত
পশ্চিম এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের মধ্যেই মার্চ মাসে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল ক্রয় প্রায় ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে ভারত। একই সময়ে দেশের মোট তেল আমদানি প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটায় ভারতের সামগ্রিক তেল আমদানি কমেছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিতিশীলতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের তেল আমদানিতে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভারতের এলপিজি আমদানি প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি এলএনজি সরবরাহও কমেছে। ফলে ভারতকে বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি বেড়েছিল। এই সময়ে ভারত সস্তায় রাশিয়ার তেল ক্রয় করে দেশীয় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রোষের মুখে পড়ে দেশটি।
যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বাণিজ্য চুক্তিতে বাধা সৃষ্টি করে এবং রাশিয়ার তেল আমদানির শাস্তি হিসেবে ভারতের পণ্যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। সব মিলিয়ে ভারতের পণ্যে শুল্কের পরিমাণ ৫০ শতাংশে পৌঁছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার তেল আমদানি কিছুটা কম ছিল। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ দিনের ছাড়ের সিদ্ধান্তের পর মার্চে আমদানি আবার বেড়েছে। এই ছাড়ের ফলে সমুদ্রে থাকা নিষিদ্ধ তেল কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
গত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতের তেল আমদানি থেকে রাশিয়ার তেলের অংশ কমে যায়। কিন্তু ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ভারত আবার রাশিয়ার তেল আমদানি সহজ শর্তে করতে সক্ষম হয়। এই ছাড়ের ফলে সমুদ্রে ভাসমান নিষিদ্ধ ট্যাংকার থেকে তেল কেনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
আরো পড়ুন : মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে
এছাড়া আফ্রিকার কিছু দেশ, যেমন অ্যাঙ্গোলা, গ্যাবন, ঘানা এবং কঙ্গো থেকেও ভারতের তেল আমদানি বেড়েছে। যদিও মোট আমদানিতে তাদের অংশ এখনও কম।
তেল–বাণিজ্য পরিসংখ্যান বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের বিশ্লেষক সুমিত রিতোজা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, মধ্য এশিয়ার উৎপাদকেরা পাইপলাইনের মাধ্যমে কিছু তেল সরবরাহ ঘুরিয়ে দিচ্ছে। ফলে সমুদ্রপথে সমস্যা থাকলেও ভারত কিছুটা তেল সংগ্রহ করতে পারছে।
সুমিত বলেন, এপ্রিল মাসেও রাশিয়া থেকে ভারতের তেল ক্রয় ধারাবাহিক থাকতে পারে। পাশাপাশি ইরান ও ভেনেজুয়েলা থেকেও তেল আমদানি হওয়া সম্ভব। এতে তেলের সরবরাহের ঝুঁকি কিছুটা কমবে।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কাতার থেকে ভারতের এলএনজি সরবরাহ মার্চ মাসে ৯২ শতাংশ কমেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, অ্যাঙ্গোলা এবং নাইজেরিয়া থেকে অতিরিক্ত আমদানির মাধ্যমে এই ঘাটতি আংশিকভাবে পূরণ হয়েছে।
ভারত তার অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি আমদানি নির্ভর। যুদ্ধের কারণে ভারত চাপে পড়ে। মার্চ মাসে আমদানি কমে যাওয়ায় দেশটির জ্বালানির দাম ইতোমধ্যেই বেড়েছে।
ভারতের জ্বালানিবিশেষজ্ঞ নরেন্দ্র তানেজা বিবিসির এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ৪১টি দেশ থেকে ভারত তেল আমদানি করে। ভারতের মাটির নিচে কৌশলগত মজুদ প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। এছাড়া তেলের ডিপো, শোধনাগার ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছে মজুত আছে। সব মিলিয়ে ভারতের কাছে প্রায় ৫০ দিনের তেল মজুদ আছে। তবে তা একবারে শেষ করা সম্ভব নয়। তাই বাস্তবে ভারতের কাছে ৪০ দিনের তেল মজুদ ধরা যেতে পারে।
