জ্বালানির সঙ্কটে বিশ্বের কোন দেশ কী পদক্ষেপ নিচ্ছে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পশ্চিম এশিয়ায় ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের কারণে গোটা বিশ্বে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া। ভারতের মতো দেশগুলো যারা প্রচুর পরিমাণে ক্রুড অয়েল আমদানি করে তারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কোনো কোনো দেশ জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করেছে। অন্যদিকে, এই সংকটের প্রভাবে নিজের নাগরিকদের রক্ষা করতে বিভিন্ন দেশ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। নিচে উল্লেখ করা হলো দেশের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী নেয়া ব্যবস্থাগুলো:
দক্ষিণ কোরিয়া: কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা শিথিল করেছে এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবহার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে।
চীন: পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে এবং জরুরি মজুত থেকে সার সরবরাহ নিশ্চিত করেছে।
অস্ট্রেলিয়া: অভ্যন্তরীণ মজুদ থেকে পেট্রল ও ডিজেল বাজারে ছেড়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
জাপান: এক বছরের জন্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবহার বৃদ্ধি করার নিয়ম শিথিল করেছে এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে আরো এলএনজি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়েছে।
আরো পড়ুন : মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউ): বিদ্যুৎ কর ও গ্রিড ফি কমিয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।
বাংলাদেশ: বিদেশ থেকে জ্বালানি ও এলএনজি আমদানির জন্য অর্থ জোগাড়ের চেষ্টা চালিয়েছে এবং ভারতের কাছ থেকেও ডিজেল আমদানির ব্যবস্থা করেছে।
আর্জেন্টিনা: তরল জ্বালানি ও কার্বন ডাই অক্সাইডের ওপর নির্ধারিত কর আপাতত স্থগিত করেছে।
মালয়েশিয়া: পেট্রোল ভর্তুকি বৃদ্ধি করেছে এবং সার সরবরাহ নিশ্চিত করেছে।
ইন্দোনেশিয়া: কয়লা উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে এবং ১ জুলাই থেকে বি৫০ (৫০% পাম অয়েল ভিত্তিক বায়োডিজেল) চালু করেছে।
ভিয়েতনাম: পরিকল্পিত সময়ের আগেই পুরোপুরি ইথানল-মিশ্রিত গ্যাসোলিন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা: এক মাসের জন্য জ্বালানি লেভি হ্রাস করেছে।
গ্রিস: এপ্রিল ও মে মাসে জ্বালানি ও সারের ওপর ভর্তুকি দিচ্ছে এবং ফেরি টিকিটে ছাড় দিয়েছে।
ব্রাজিল: ডিজেল আমদানিতে রাজ্যগুলিকে ভর্তুকি দেওয়ার নতুন পরিকল্পনা করেছে, কেন্দ্রীয় কর বাতিল করেছে এবং তেল রপ্তানির ওপর ১২ শতাংশ কর আরোপ করেছে।
