আকুর বিল পরিশোধে রিজার্ভ কমে ৩৪ বিলিয়ন ডলার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
ছবি: প্রতীকি
এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বিল পরিশোধের পর বিদেশি মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ কমেছে। এবার মার্চ-এপ্রিল সময়ের জন্য আকুর বিল পরিশোধ করা হয়েছে ১৫১ কোটি ৪৯ লাখ ডলার।
এতে বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ কমে হয়েছে ৩৪ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার, আর বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।
রোববার (১০ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ৭ মে (বৃহষ্পতিবার) শেষে মোট রিজার্ভ ছিল ৩৫ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী, রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলারে।
এর আগে গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ের আকু বিল ছিল ১৩৬ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। গত নভেম্বর-ডিসেম্বর সময়ের আকু বিল ছিল ১৫৩ কোটি ডলার। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে পরিশোধ করা হয় ১৬১ কোটি ডলার। তার আগের দুই মাসে ১৫০ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, মার্চ-এপ্রিল সময়ের বিভিন্ন আমদানি দায় পরিশোধের অংশ হিসেবে আকুকে ১৫১ কোটি ৪৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। এ কারণে রিজার্ভ কিছুটা নেমে আসে। তবে রপ্তানি আয়, প্রবাসী আয় ও উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ ছাড় বাড়লে রিজার্ভে আবার কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে বলে আশা করছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি, ভোগ্যপণ্য ও শিল্প কাঁচামাল আমদানির চাপ এখনো বেশি রয়েছে। তবে আকুর বিল পরিশোধের সময় সাধারণত রিজার্ভে সাময়িক পতন দেখা যায়। দীর্ঘমেয়াদে রিজার্ভ স্বস্তিদায়ক রাখতে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো এবং আমদানি ব্যবস্থাপনায় নজর দেওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, আকু হলো এশিয়ার কয়েকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যকার একটি আন্ত-আঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তিব্যবস্থা। এর মাধ্যমে এশিয়ার ৯টি দেশের মধ্যে যেসব আমদানি-রপ্তানি হয়, তার মূল্য দুই মাস পরপর নিষ্পত্তি করা হয়। অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত লেনদেন তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন হয়। আকুর সদস্যদেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ।
