ঊর্ধ্বমুখী ভোজ্যতেল, মুরগি ও নিত্যপণ্যের দাম
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪১ এএম
এক মাস ধরে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে এসব পণ্য। ছবি : সংগৃহীত
দেশের ভোজ্যতেল ও মুরগির বাজারে অস্থিরতা এখনও কাটেনি। প্রায় এক মাস ধরে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে এসব পণ্য। এর সঙ্গে নতুন করে চিনির দামও বেড়েছে। সবজির বাজারও আগের মতোই চড়া রয়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, দুর্বল বাজার তদারকির সুযোগে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছেন।
এতে স্বল্প আয়ের মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি সংকট, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ঘাটতির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মহাখালী ও আগারগাঁও কাঁচাবাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
খুচরা বাজারে বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৯২ থেকে ১৯৫ টাকা এবং পাম অয়েল ১৮৪ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক থেকে দেড় মাস আগে এই দাম ছিল যথাক্রমে ১৭৫ থেকে ১৮০ এবং ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা। অর্থাৎ এক মাসে দুই ধরনের তেলের দাম ১৫ থেকে ১৯ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
যদিও সরকার নির্ধারিত মূল্য সয়াবিন তেলের জন্য ১৭৬ টাকা এবং পাম অয়েলের জন্য ১৬৬ টাকা। বোতলজাত তেলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত দাম থাকায় বিক্রেতারা বেশি দামে বিক্রি করতে না পারলেও কিছু ক্ষেত্রে বোতল খুলে খোলা তেল হিসেবে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
চিনির বাজারেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। মাসখানেক আগে প্রতি কেজি চিনি ৯৫ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে ১০০ থেকে ১১০ টাকায় উঠেছে। মুরগির বাজারে প্রায় এক মাস ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আরো পড়ুন : জ্বালানি অস্থিরতায় উৎপাদন ব্যয়ে রেকর্ড বৃদ্ধি
ডিমের দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহে প্রতি ডজন ১১০ টাকা থাকলেও এখন তা বেড়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগির দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে গরুর মাংসের বাজারেও। এক মাসে প্রতি কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস।
সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। দুই-একটি বাদে বেশিরভাগ সবজি ৭০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঢ্যাঁড়শ ৬০ থেকে ৭০, পেঁপে ৪০ থেকে ৫০, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল ও ঝিঙা ৮০ থেকে ১০০, বেগুন ৮০ থেকে ১০০, পটোল ৭০ থেকে ৮০ এবং বরবটি ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শসা ৬০ থেকে ৮০ এবং টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে কাঁচামরিচের দাম তুলনামূলক কম, প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। সব মিলিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে ঊর্ধ্বগতির এই প্রবণতায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরো বেড়েছে।
