দাম বেড়েছে মাছ-মুরগি-সবজি তেলসহ অনেক পণ্যের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
মাছ, মুরগি, সবজি ও তেলসহ অনেক পণ্য এখন বাড়তি দামেই কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। সাম্প্রতিক সময়ে দাম বেড়েছে খোলা সয়াবিন তেলের। বিভিন্ন ধরনের সবজির দামও চড়া।
এসব নিত্যসামগ্রী কিনতে ক্রেতাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
গত বছরের এই সময়ের তুলনায় তেলাপিয়া, পাঙাশ ও চিংড়ি মাছের দাম এখন বেশি। এক বছর আগের এই সময়ে বাজারে সোনালি মুরগির কেজি ছিল ২৩০–২৬০ টাকা। তখন মাঝারি আকারের এক কেজি রুই মাছ কেনা যেত ৩০০–৩৫০ টাকায়। এখন বাজারে সোনালি মুরগির কেজি ৩৮০–৪২০ টাকা। আর ৩৫০ টাকার নিচে রুই মাছ কেনা যায় না। আকারে একটু বড় হলে রুই মাছের দাম হয় ৪০০ টাকার আশপাশে।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে মুরগি ও মাছের সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু এই সংকটের সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী দাম বাড়িয়েছেন। আর গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরু হিসেবে বেশ কিছু সবজির দামও বাড়তি।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও আগারগাঁও তালতলা বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা–বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বাজারে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রায় সপ্তাহখানেক ধরে সোনালি মুরগির এমন চড়া দাম রয়েছে। একপর্যায়ে ৪৫০ টাকা দামও উঠেছিল। গত এক মাসের ব্যবধানে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে অন্তত ১০০ টাকা বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় দেড়’শ টাকা। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি দামও কেজিতে ২০ টাকা বেশি রয়েছে। তবে ডিমের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
বিক্রেতারা জানান, মুরগির বাচ্চা ও খাদ্যের দাম বাড়ায় লোকসানে পড়ে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক খামারি সোনালি মুরগি পালন কমিয়েছেন। এ ছাড়া রোগের আক্রমণেও অনেক মুরগি মারা যায়। ফলে বর্তমানে সোনালি মুরগির সরবরাহ–সংকট থেকে দাম বেড়েছে। ক্রেতারা অবশ্য এ যুক্তি মানছেন না। যেমন মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের বাসিন্দা আসিফ হোসেন বলেন, হঠাৎ করে সোনালি মুরগির দাম ১০০ টাকার বেশি বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা সরবরাহ–সংকটের সুযোগ নিয়ে অন্যায্যভাবে দাম বাড়িয়েছেন। তাদের কারসাজি ছাড়া একবারে এত দাম বাড়ার কথা নয়।
এদিকে, বাজারে আকারভেদে প্রতি কেজি তেলাপিয়া, কই ও পাঙাশ মাছ ২২০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাঝারি আকারের চাষের চিংড়ির কেজি ৮০০ টাকা। আর চাষের শিং, পাবদা ও পোয়া মাছ বিক্রি হয়েছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে।
এখন গ্রীষ্ম মৌসুমের সবজি বাজারে ওঠা শুরু করেছে। চিচিঙ্গা, ঝিঙে, বরবটি, ঢ্যাঁড়স প্রভৃতি এর মধ্যে অন্যতম। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সাধারণত এ সময়ে মৌসুমি সবজির দাম একটু বেশি থাকে। এসব সবজির সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে।
বাজারে চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। বিক্রেতারা জানান, প্রায় দুই মাস ধরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কম। কোম্পানিগুলো ডিলার পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে তিন থেকে চার টাকা করে বাড়িয়েছে।
বোতলজাত সয়াবিনের সংকটের মধ্যে খোলা সয়াবিন তেলের দামও লিটারে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে খুচরা পর্যায়ে এক কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়, যা দুই সপ্তাহ আগেও কেজিতে ৫ টাকা কম ছিল।
