একই পরিবারের ৫ জন খুন
পলাতক ফোরকানকে আসামি করে মামলা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ঘাতক ফোরকান মিয়াকে। তার বিরুদ্ধে কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আরও ৩-৪ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিহত শারমিন খানমের বাবা মো. সাহাদৎ মোল্লা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন বলে নিশ্চিত করেছে কাপাসিয়া থানা পুলিশ।
শুক্রবার (৮ মে) রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা এলাকার ভাড়া বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
নিহতরা হলেন, শারমিন খানম (৩৫), তার তিন কন্যা মিম খানম (১৪), উম্মে হাবিবা ওরফে মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (১৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে গোপালগঞ্জের মেরী গোপীনাথপুর এলাকার ফোরকান মিয়ার সঙ্গে শারমিন খানমের বিয়ে হয়। তারা কাপাসিয়ার রাউতকোনা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ফোরকান পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে খাবারের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের চেতনানাশক খাওয়ান ফোরকান। পরে গভীর রাতে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের হাত-পা বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার পর তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনাস্থল থেকে একটি ‘অভিযোগপত্র’ উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে ফোরকান দাবি করেন- তার স্ত্রী পরকীয়া সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার কাছ থেকে অর্থ ও সম্পদ আত্মসাৎ করেছেন। তবে ওই অভিযোগের কোনো স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট থানায় এ ধরনের কোনো অভিযোগ জমা পড়ার প্রমাণও মেলেনি।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম জানান, ফোরকানকে আসামি করে শারমিন খানম ও রসুল মিয়ার বাবা মো. সাহাদৎ মোল্লা বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এছাড়া ঘাতককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
