এক দাগে তিন মালিক, জমি নিয়ে তোলপাড়
মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১২ পিএম
ছবি : ভোরের কাগজ
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চাঞ্চল্যকর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে একই দাগের জমি একাধিক ব্যক্তির নামে অতিরিক্ত পরিমাণে নামজারি করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খোলাপাড়া মৌজার আরএস ২৮৪ নম্বর দাগে মোট জমির পরিমাণ ৭৯ শতাংশ। অথচ এই এক দাগ থেকেই পৃথক তিনটি আবেদনের মাধ্যমে মোট ১০৮ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি নামজারি ও জমাভাগ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে আনোয়ারা বেগম ও মনোয়ারা খাতুনের নামে সাড়ে ১০ শতাংশ জমি নামজারি করা হয়। পরে আওলাদ হোসেনের নামে আবার ৭৯ শতাংশ জমি নামজারি দেওয়া হয়। পাশাপাশি মো. হিম্মত আলীর নামে আরো ১৯ শতাংশ জমি নামজারি করা হয়েছে।
কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, মোট জমির প্রকৃত পরিমাণের তুলনায় অনেক বেশি জমি নামজারি করা হয়েছে। এদিকে ভুক্তভোগী হিম্মত আলী খাজনার দাখিলা কাটতে গিয়ে এই অনিয়মের বিষয়টি জানতে পারেন। পরে ভূমি অফিসে গিয়ে তিনি বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হন।
আরো পড়ুন : গ্যাস না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ করলেন আমিনবাজারের বাসিন্দারা
ভূমি অফিসের সংরক্ষিত রেজিস্টার অনুযায়ী, আনোয়ারা ও মনোয়ারার নামে সাড়ে ১০ শতাংশ জমির জোত খোলা হয়েছে। আওলাদ হোসেন ৭৯ শতাংশ জমি নামজারি করলেও জোত খুলেছেন সাড়ে ৬৮ শতাংশ। অন্যদিকে, হিম্মত আলীর কোনো জোত খোলা হয়নি। ফলে তিনি চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী হিম্মত আলী জানান, তিনি ক্রয় ও পৈত্রিক সূত্রে মোট ৩৮ শতাংশ জমির মালিক। এর মধ্যে ১৯ শতাংশ বিক্রি করলেও বাকি ১৯ শতাংশের নামজারি সম্পন্ন থাকলেও তিনি দাখিলা পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস দাবি করেন, নামজারির পর সময়মতো জোত খোলা না হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে তিনি কোনো ধরনের অনিয়ম বা অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হাবেল উদ্দিন বলেন, এ ধরনের ঘটনা হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি রেজিস্টার যাচাই করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
