×

চট্টগ্রাম

উন্নয়ন যেন ফাইলেই বন্দি

স্যানিটেশন প্রকল্পে ‘লুটপাট’, দুই বছরেও শেষ হয়নি কাজ

Icon

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম

স্যানিটেশন প্রকল্পে ‘লুটপাট’, দুই বছরেও শেষ হয়নি কাজ

ছবি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় সরকারি স্যানিটেশন প্রকল্প

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় সরকারি স্যানিটেশন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে। “মানব সম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি” প্রকল্পের আওতায় টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণে নিম্নমানের কাজ, উপকারভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, উজানচর ইউনিয়নে হতদরিদ্র পরিবারের জন্য ২২৯টি টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণে ৮০ লাখ ৩৯ হাজার ৭৩২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি ল্যাট্রিনের ব্যয় ধরা হয় ৩৫ হাজার ১০৮ টাকা (ওয়াই জংশনসহ)। ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “মেসার্স ইসলাম এন্টারপ্রাইজ”-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও প্রায় দুই বছর পার হলেও প্রকল্পটির কাজ এখনো শেষ হয়নি। কার্যাদেশ অনুযায়ী সাত কর্মদিবসের মধ্যে কাজ শুরু করার কথা থাকলেও সেটিও সময়মতো শুরু হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে উজানচর গ্রামের মাদ্রাসা–সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ল্যাট্রিন নির্মাণ সামগ্রী তৈরিতে নিম্নমানের ইট, সুরকি, বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। রিং তৈরিতে ব্যবহৃত তার (গুনা)–এর মানও দুর্বল। নির্মাণাধীন রিং, স্ল্যাব ও পাইপের মান ও আকার সিডিউল অনুযায়ী না হওয়ায় সেগুলো দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয় উপকারভোগীরা অভিযোগ করেন, ল্যাট্রিন দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন এলাকায় অর্থ আদায় করা হয়েছে। অনেকেই এখনো ল্যাট্রিন পাননি। এতে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

ফরদাবাদ ইউনিয়নে ২৪৫টি ল্যাট্রিন নির্মাণের অনুমোদন থাকলেও মাত্র ১২৯টি নির্মাণ করেই পুরো বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আবু সিয়ামের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। বাকি কাজ বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রকল্পটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “মেসার্স ইসলাম এন্টারপ্রাইজ”-এর প্রতিনিধি দেওয়ান শহিদুল হক বলেন, “কোথায় কোথায় অনিয়ম হচ্ছে, কী কী সমস্যা- লিখে পাঠান, আমরা সমাধান করে দেব। আমাদের লস গেলেও সমস্যা নাই।”

এ বিষয়ে প্রকল্পের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আবু সিয়াম বলেন, “কয়েকজন উপকারভোগীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ আমার কাছে এসেছিল। পরে আমি ঠিকাদারকে চিঠি ইস্যু করে বিষয়টি সমাধান করি। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ হচ্ছে বলে শুনেছি। আগামীকাল সরেজমিনে যাব। যদি খারাপ হয়, বিষয়টি দেখব।” ফরদাবাদ ইউনিয়নে প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ না করে বিল উত্তোলন এবং বাকি কাজের অগ্রগতি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই বিষয়টি নিয়ে কথা বইলেন না, এটা বাদ দেন।”

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তদন্তে অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ভাড়া সর্বোচ্চ ১৫ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে

যাত্রী কল্যাণ সমিতি ভাড়া সর্বোচ্চ ১৫ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে

মাদকের টাকা না পেয়ে নিজের ঘরেই আগুন

মাদকের টাকা না পেয়ে নিজের ঘরেই আগুন

এসএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে আয়োজনের পরিকল্পনা

শিক্ষামন্ত্রী এসএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে আয়োজনের পরিকল্পনা

উজানের স্রোতে ডুবে গেল কৃষকের সোনালি স্বপ্ন

পানির নিচে ৩০০ বিঘা ধান উজানের স্রোতে ডুবে গেল কৃষকের সোনালি স্বপ্ন

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App