অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার প্রতিবাদ, চবি শিক্ষার্থীকে পেটাল সিএনজিচালক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১১ পিএম
ছবি: অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার প্রতিবাদ করায় চবি শিক্ষার্থীকে পেটায় সিএনজিচালক
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন এক সিএনজিচালক। আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর নাম মেহেদী হাসান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মেরিন সাইন্স ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী।
জানা যায়, ১ নম্বর গেট এলাকার ৭ টাকার ভাড়া ১০ টাকা নেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত ভাড়া দিতে রাজি না হওয়ায় হাসান নামের এক সিএনজিচালক মেহেদী হাসানকে মারধর করেন। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। দীর্ঘ সময় অবরোধের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেন।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে, আজ রাতের মধ্যে হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করতে হবে, গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত ১ নম্বর গেট–জিরো পয়েন্ট সড়কে সিএনজি চলাচল বন্ধ থাকবে, ৪টি চক্রাকার বাস চালু রাখতে হবে এবং আগামী ৭ দিনের মধ্যে ১ নম্বর গেটে একটি পুলিশ বক্স স্থাপন করতে হবে। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, রাতের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা না হলে আগামীকাল সকালে আবারও সড়ক অবরোধ করা হবে। এ ঘোষণা দিয়ে তারা অবরোধ স্থগিত করেন।
চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভুঁইয়া বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী এক নম্বর গেট এলাকায় ৭ টাকার ভাড়া ১০ টাকা চাওয়ার প্রতিবাদ করলে তার ওপর হামলা করে এক সিএনজি চালক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা জিরো পয়েন্ট অবরোধ করার অনেকক্ষণ পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উপস্থিত হয়। আমরা প্রশাসনের কাছে কিছু দাবি জানাই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।”
চবি মেডিকেলের চিকিৎসক ডা. মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, “ওই শিক্ষার্থীর শরীরের অনেক জায়গায় কাটা-ছেড়ার আঘাত রয়েছে। ওটা আমরা ড্রেসিং করেছি। তিনি শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা পেয়েছেন। আমরা আপাতত ব্যথা উপশমের ঔষধ দিয়েছি। এখন তিনি আমাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।”
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান বলেন, “যেই সিএনজি চালক আমাদের এক শিক্ষার্থীকে আহত করেছে, সে গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ধরনের সিএনজি চলাচল বন্ধ থাকবে। এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের নিজস্ব পরিবহন চক্রাকার আকারে চলবে।”
