রাজনীতির দুই রূপ! ঢাকা-৯ বনাম ঢাকা-৮—এই নির্বাচন আলাদা কেন?
আবুল হাসান
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৫ এএম
ঢাকা মহানগরীর দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন—ঢাকা-৯ ও ঢাকা-৮। আসন দুইটির ভৌগলিক অবস্থান যেমন পাশাপাশি তেমনি নির্বাচনী আড্ডা বা আলোচনার টেবিলেও থাকছে ঢাকা-৮ ও ঢাকা-৯ আসন।
যা দেশের রাজনীতিতে দুই রকম আমেজ তৈরি করেছে। একই শহরে একই সময়ে ভোটের মাঠে থাকলেও এই দুই আসনের প্রার্থীদের আচরণ, ভাষা ও রাজনৈতিক কৌশলে স্পষ্ট বিপরীত চিত্র ফুটে উঠছে।
ঢাকা-৯ আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় যেন ভিন্ন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী তাসনিম জারা। তাদের প্রচারণায় প্রতিপক্ষকে তীব্র আক্রমণের পরিবর্তে প্রাধান্য পাচ্ছে উন্নয়ন পরিকল্পনা, নাগরিক সমস্যা, ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও দর্শন।
বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা-৯–এর এই সৌহার্দ্যপূর্ণ প্রচারণা ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। একই সঙ্গে সামনে আনছে সুস্থ্য রাজনীতির চর্চাকে।
সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে ঢাকা-৮ আসনে। এখানে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও ১১ দলীয় জোট শরীক এনসিপির নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারির প্রচারণা ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং কঠোর ভাষার ব্যবহার এই আসনের নির্বাচনী পরিবেশকে বেশ সংঘাতপূর্ণ করে তুলেছে।
নির্বাচনী মঞ্চ থেকে শুরু করে সংবাদ সম্মেলন—সবখানেই অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের সুর স্পষ্ট। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে একদিকে যেমন কৌতূহল বাড়ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে উৎকণ্ঠাও।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ঢাকা-৮–এর এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি জাতীয় রাজনীতির চিরাচরিত সংঘাতমুখী ধারাকেই প্রতিফলিত করছে। অন্যদিকে, ঢাকা-৯ দেখাচ্ছে যে ভিন্ন পথও সম্ভব—যেখানে মতের পার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক সম্মান অক্ষুণ্ন রাখা যায়।
সব মিলিয়ে, ঢাকা-৯ ও ঢাকা-৮ আসন দুটি যেন একই নির্বাচনের ভেতর দুটি আলাদা রাজনৈতিক দর্শনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
