যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যায় গ্রেপ্তার আবুগারবিয়েহকে নিয়ে যা জানা গেল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার হিশাম আবুগারবিয়েহকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিমনের সাবেক রুমমেট ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুগারবিয়েহ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক সহিংস অপরাধের অভিযোগ ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিখোঁজ আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টি মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে তার বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ তাকে ফোন করে বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। পুলিশের বরাতে তিনি বলেন, একটি বাসার ভেতর রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া মরদেহের অংশবিশেষের সঙ্গে ডিএনএ পরীক্ষার মিল পাওয়া গেছে। তবে পুরো মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আরো পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্রে লিমনের পর বৃষ্টির মৃত্যু নিশ্চিত করল পুলিশ
জাহিদ হাসান প্রান্ত আরো বলেন, ফ্লোরিডা পুলিশের ধারণা অনুযায়ী একই ঘটনায় নিখোঁজ থাকা আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন।
নিহত জামিল লিমন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। অন্যদিকে নাহিদা বৃষ্টি রাসায়নিক প্রকৌশলের শিক্ষার্থী ছিলেন। দুজনেরই বয়স ছিল ২৭ বছর।
তদন্ত কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, লিমনের মরদেহ উদ্ধারের আগেই হিশামকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। টাম্পার উত্তরে তার পরিবারের বাড়িতে পারিবারিক সহিংসতার ফোন পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। পুলিশ পৌঁছালে হিশাম ঘরের ভেতর নিজেকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং বের হতে অস্বীকৃতি জানান। পরে পুলিশ তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে সোয়াট টিমকে ডাকা হয়। দীর্ঘ উত্তেজনার পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন।
আদালত ও শেরিফ অফিসের নথি অনুযায়ী, হিশাম আবুগারবিয়েহ ইউএসএফের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তবে গ্রেপ্তারের সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন না।
২০২৩ সালের মে ও সেপ্টেম্বর মাসে তার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাত এবং একটি জনশূন্য বাড়িতে চুরির অভিযোগ আনা হয়েছিল। যদিও তখন এসব অভিযোগ তুলনামূলকভাবে লঘু অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।
হিলসবোরো কাউন্টি আদালতের নথিতে আরো দেখা যায়, পারিবারিক সহিংসতার কারণে তার বিরুদ্ধে পরিবারের এক সদস্য দুটি ‘ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স ইনজাংশন’ বা সুরক্ষা আদেশের আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে একটি আদালত মঞ্জুর করেছিল। এছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে।
হিলসবোরো কাউন্টির চিফ ডেপুটি জোসেফ মাউরার জানিয়েছেন, জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হিশামকে প্রাথমিকভাবে কয়েকটি অভিযোগে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মৃত্যুর তথ্য গোপন রাখা, অবৈধভাবে মরদেহ সরানো, আলামত নষ্ট করা, নিজেকে মিথ্যাভাবে আটকে রাখা এবং পারিবারিক সহিংসতা ও শারীরিক আঘাতের অভিযোগ।
পুলিশ জানিয়েছে, লিমনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
