বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের জনপ্রিয় সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম। এবার এই জনপ্রিয় সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে আসতে পারে বড় ধরনের পরিবর্তন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে শুরু হতে যাচ্ছে এক গুরুত্বপূর্ণ বিচার। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা এবং আসক্তিমূলক নকশার অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে এই মামলা হয়েছে।
নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের রাজধানী সান্তা ফেতে সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে এই বিচার। অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্ল্যাটফর্ম এমনভাবে তৈরি করেছে যাতে কিশোররা বেশি সময় ধরে যুক্ত থাকে। একই সঙ্গে শিশুদের যৌন শোষণসহ নানা ঝুঁকি থেকে যথেষ্ট সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
এই মামলার মূল প্রশ্ন হলো, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো ‘পাবলিক নিউসেন্স’ বা জনস্বার্থে ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে কি না। আইনগতভাবে এটি প্রমাণিত হলে আদালত বড় ধরনের পরিবর্তনের নির্দেশ দিতে পারে। যেমন- অ্যালগরিদম পরিবর্তন, বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করা, কিংবা কিছু ফিচার বন্ধ করা।
এর আগে মার্চ মাসে মামলার প্রথম ধাপে জুরি বোর্ড রায় দেয়, মেটা ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে। তারা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামকে তরুণদের জন্য অনিরাপদ হিসেবে উপস্থাপন করেছিল। ফলে আদালত কোম্পানিটিকে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানা করার নির্দেশ দেয়।
নতুন এই ধাপে অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ আরো বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ চাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার দাবি করা হতে পারে। এই অর্থ দিয়ে ১৫ বছরের একটি মানসিক স্বাস্থ্য কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। যার মধ্যে নতুন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গড়া ও চিকিৎসক নিয়োগের বিষয়ও আছে।
অন্যদিকে মেটা বলছে, অভিযোগগুলোর অনেকটাই বাস্তবসম্মত নয়। তাদের দাবি, চাওয়া পরিবর্তনগুলোর কিছু প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব নয়। এমনকি এসব শর্ত মানতে হলে নিউ মেক্সিকো থেকে সেবা বন্ধ করতেও হতে পারে।
এক বিবৃতিতে মেটা জানিয়েছে, শুধু একটি প্ল্যাটফর্মকে লক্ষ্য করে সমস্যা সমাধান করা যাবে না। কারণ কিশোররা প্রতিদিন শতাধিক অ্যাপ ব্যবহার করে।
মামলাটি শুধু নিউ মেক্সিকোতেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৪০টির বেশি অঙ্গরাজ্য এবং প্রায় ১ হাজার ৩০০ স্কুল জেলা একই ধরনের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তারা আদালতের মাধ্যমে শিল্পখাতে বড় পরিবর্তন আনতে চায়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘পাবলিক নিউসেন্স’ ধারণাটি আগে পরিবেশ দূষণ, তামাক বা মাদকসংক্রান্ত মামলায় বেশি ব্যবহৃত হতো। এখন এটি প্রযুক্তি খাতেও প্রয়োগের চেষ্টা হচ্ছে। এই মামলার রায় ভবিষ্যতে অন্যান্য মামলার জন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।
নিউ মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ আদালতে যেসব পরিবর্তনের প্রস্তাব দেবে, তার মধ্যে রয়েছে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করা, কিশোরদের জন্য অ্যালগরিদমে মানসম্মত কনটেন্ট অগ্রাধিকার দেওয়া এবং অটোপ্লে বা অনন্ত স্ক্রলিংয়ের মতো ফিচার সীমিত করা।
মেটা অবশ্য বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সরাসরি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে না। এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাদের মতে, অভিযোগগুলো অতিরঞ্জিত এবং বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিচার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে কিশোরদের নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং প্ল্যাটফর্ম ডিজাইনের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। রায়ে যদি বড় পরিবর্তনের নির্দেশ আসে তবে তা শুধু একটি অঙ্গরাজ্য নয়, বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পেও প্রভাব ফেলতে পারে।
