সুনামগঞ্জের জোয়ালভাঙ্গা হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা
মো. সাজ্জাদ হোসেন শাহ্, সুনামগঞ্জ থেকে
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
ছবি: কাগজ প্রতিবেদক
হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের জোয়ালভাঙা হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে চরম অনিয়মের অভিযোগে উঠেছে।
জানা যায়, ১১ ও ১২ নং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) অধীনে নির্মিত এই বাঁধে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না রাখায়, গতদুদিনের বৃষ্টিপাতে জোয়ালভাঙ্গা হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে হাওরের কৃষকেরা পড়েছেন, চরম দুশ্চিন্তায়। তারা বলছেন, জলাবদ্ধতার ফলে, এই হাওরের শত শত একর বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে।
আজ সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত দুদিনের বৃষ্টির পানিতে, চাষকৃত জমির ফসল কিছুটা পানিতে তলিয়ে রয়েছে।
বাঁধের নির্মাণ করার সময় পানি নিষ্কাশনের কোনও ব্যবস্থা না রাখায়, পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে।
সোমবার সকাল থেকেই মোহনপুর ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের কয়েকশ কৃষক কোদাল ও মাটি বহনের টুকরি নিয়ে, হাওরের ফসল রক্ষার জন্য, জলাবদ্ধতা দুর করতে কৃষকরাই বাঁধের কয়েকটি স্থানে নালা তৈরি করার চেষ্টা করছেন।
এমন খবর পেয়ে ওই হাওর পরিদর্শনে যান, ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জ্যৈষ্ঠ সাংবাদিক বিজন সেন রায় এবং সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব বখত বাহলুল।
এ সময় তারা কৃষকদের দুর্ভোগ দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে বাঁধ নির্মাণ করা শুধু নিয়মবহির্ভূত নয়, কৃষকদের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা। অপরিকল্পিত প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে আজ, হাজারো কৃষকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আমরা অবিলম্বে এর জন্য দায়ী পিআইসি কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা এবং দ্রুত সরকারিভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধ নির্মাণের সময় প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের পথ, নালা ও পাইপ ছাড়াই মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হয়েছে। এতে বৃষ্টির পানি আটকে গিয়ে হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। সেই সাথে বাঁধ নির্মাণের মান নিয়েও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।
অভিযোগ রয়েছে, সঠিক নিয়মে মাটি ভরাট ও দুর্মুজ না করায় নির্মাণের কয়েক দিনের মধ্যেই বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে সামান্য পাহাড়ি ঢল এলেই বাঁধ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
কৃষক সামস উদ্দিন বলেন, বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল, হাওরের ফসল রক্ষা করার জন্য। কিন্তু অপরিকল্পিত বাঁধই এখন আমাদের ডুবিয়ে মারছে। দ্রুত এই হাওরের পানি না সরালে পরিবার নিয়ে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।
