হাসানাহ কুরআন অলিম্পিয়াডের বিজয়ীদের পুরস্কার দিলেন আজহারি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২১ পিএম
হাসানাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ ড. মিজানুর রহমান আজহারি। ছবি: সংগৃহীত
তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে পবিত্র কুরআনের তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক জ্ঞান ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষে নিয়ে আয়োজিত হয় ‘কুরআন অলিম্পিয়াড ২০২৬’। দেশ বরেণ্য আলেমদের উপস্থিতিতে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।
উৎসবমুখর পরিবেশে শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে এই অলিম্পিয়াডের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন হাসানাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ ড. মিজানুর রহমান আজহারি। এছাড়া ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বরেণ্য শিক্ষাবিদসহ করপোরেট লিডার, শিল্পপতি এবং দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন।
হাসানাহ ফাউন্ডেশন বিশ্বাস করে— আল-কুরআন কেবল তিলাওয়াতের গ্রন্থ নয়; এটি মানবজীবনের পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা। তাই এই অলিম্পিয়াডের মূল দর্শন ছিল কুরআনের জ্ঞানকে পাঠের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগের মাধ্যমে আত্মোপলব্ধি জাগ্রত করা।
সারাদেশ থেকে প্রায় ১৫ হাজার প্রতিযোগী অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে তিনটি ধাপ অতিক্রম করে চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণ করে মেধার স্বাক্ষর রাখেন। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ৩টি গ্রুপের ৩০ জন বিজয়ীর হাতে ল্যাপটপ, ট্যাব, ক্রেস্ট, সনদ ও নগদ অর্থসহ মোট ১০ লক্ষাধিক টাকার পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে শায়খ ড. মিজানুর রহমান আজহারি মক্তব ও শিক্ষাভিত্তিক জাগরণে হাসানাহ ফাউন্ডেশনের বহুমাত্রিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে গতানুগতিক শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে যুগের চাহিদায় আধুনিক ও ফলপ্রসূ মডেলের প্রস্তাবনা দেন। যা খুব শীঘ্রই হাসানাহ ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন করা হবে বলে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. শেখ মহিউদ্দিন, নির্বাহী পরিচালক (আদ- দ্বীন হাসপাতাল)— হাসানাহ ফাউন্ডেশনের দেশব্যাপী মক্তব পুনর্জাগরণের মিশনকে ভূয়সী প্রশংসা করে কুরআনের জ্ঞানকে দেশের প্রান্তর থেকে প্রান্তর ছড়িয়ে দিতে হাসানাহ ফাউন্ডেশনের পাশে থাকার আশা ব্যক্ত করেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইএফএ কনসালটেন্সি লিমিটেডের সহ প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ড. ইউসুফ সুলতান।
তিনি কুরআনের পার্সপেক্টিভ থেকে নানা ধরনের জাগতিক প্রবলেমের সল্যুশন বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার আহ্বান জানান। এবং হাসানাহ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে একযোগে বহুমুখী প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মপরিকল্পনার ঘোষণা দেন।
উৎসবমুখর এই অনুষ্ঠান অলঙ্কৃত করেন প্রফেসর মোখতার আহমাদ, শাহ মোহাম্মদ অলীউল্লাহ, ড. ইউসুফ সুলতান, মুফতি রেজাউল করিম আবরার, ডা. শেখ মহিউদ্দিন, সিফাত হাসান, মুফতি মুহাম্মদ আলী, হাবীবুল্লাহ মুহাম্মদ ইকবাল, মুফতি সাইফুল ইসলাম, গাজী সানাউল্লাহ রাহমানী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাবের হোসেন সহ প্রমুখ বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তব্যে তারা হাসানাহ ফাউন্ডেশনের এই সময়োপযোগী ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, বর্তমানের নানা অপসংস্কৃতির ভিড়ে তরুণদের প্রকৃত নৈতিকতায় ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের শিক্ষামূলক আয়োজন মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। হাসানাহ ফাউন্ডেশন আগামী দিনগুলোতে সমাজ সংস্কার ও নৈতিক উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
১৫ হাজার নারী-পুরুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে আসমানি হিদায়াত ও কুরআন অনুধাবনের প্রতি গভীর অনুরাগ বিদ্যমান। এই অলিম্পিয়াড কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি আত্মোপলব্ধি জাগ্রত করার একটি আন্দোলনের নাম।
