নীলফামারীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট
মো. রাজীব চৌধুরী রাজু, নীলফামারী থেকে
প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
ছবি: কাগজ প্রতিবেদক
গত কয়েকদিন ধরে নীলফামারী জেলার অধিকাংশ তেল পাম্প গুলোতে তেল সরবরাহ না থাকায় তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন যানবাহন চালক ও কৃষকেরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা শহরের কিছু কিছু তেল পাম্পে তেল পাওয়া গেলেও সেখানে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে ১০০ বা ২০০ টাকার বেশি তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ যানবাহন মালিকদের। অভিযোগ রয়েছে, চড়া মুল্য কালোবাজারে তেল বিক্রির।
সরকার তেল বিক্রিতে রেশনিং পদ্ধতি তুলে নেয়ার পরেও জেলার দু একটি পাম্প ব্যাতিত সকল পাম্প মালিকগন এখনো রেশনিং পদ্ধতিতেই তেল বিক্রি করায় তেলের তীব্র সংকটে জনমনে আতংক ছড়িয়ে পড়ছে।
ঈদের দ্বিতীয় দিন সকালে জেলা শহরের মোটরসাইকেল চালক আব্দুর রউফ বলেন, “সকাল থেকে তিনটি পাম্প ঘুরে কোথাও তেল পাই নি। এখানে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, শুনেছি ১০০ টাকার তেল দিবে তাই আসছি
লাইনে দাড়িয়ে থাকা আরেক ক্রেতা জানান, “গত দুই দিন ধরে বাইক নিয়ে ঘুরছি কিন্তু কোথাও তেল পাচ্ছি না। আজ এখানে এসেছি শুনলাম ১০০ টাকার তেল পাওয়া যাবে। ভোগান্তি হলেও, আশায় দাঁড়িয়ে আছি।”
এদিকে, জ্বালানী তেলের এ সংকট সৃষ্টির পেছনে পাম্প মালিকদের অব্যাবস্থাপনা ও সিন্ডিকেট অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করেন সাধারণ ক্রেতারা।
কারণ হিসেবে ক্রেতারা বলছেন, জেলার পাম্প মালিকগণ ডিপো থেকে সংগৃহীত তেল সরাসরি যানবাহনে বিক্রির পরিবর্তে লাইসেন্স বিহীন খুচরা দোকানগুলোতে ড্রাম, জারকিন বা অন্য পন্থায় বিক্রি করতে বেশী উৎসাহী। এসব খুচরা দোকানগুলোতে প্রতি লিটার পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে ২ শত টাকা দরে। পাম্প মালিকদের সংগৃহীত অধিকাংশ তেল এভাবেই কালোবাজারে বিক্রি হওয়ায় সংকট ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে।
জ্বালানি তেল সংকট নিয়ে পাম্প মালিকগণের সাথে কথা বলতে চাইলে কেউই মন্তব্য করতে রাজি হন নি। জ্বালানি তেলের এই তীব্র সংকটে শুধু যানবাহন মালিকেরাই নয়, বিপাকে পড়েছে কৃষকরাও। চলতি এ মৌসুমে জেলার বেশির্ভাগই ডিজেল চালিত সেচ পাম্পগুলো বন্ধ রয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক নায়িরুজ্জামান জানান, তেলের কোন সংকট নেই, সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে, আতংকিত হওয়ার কিছু নেই, সরকার রেশনিং পদ্ধতি তুলে নিয়েছে। কালোবাজারিদের ব্যাপারে দ্রুত আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
